যুবসাথীতে নাম লেখালেন ডিপ্লোমা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে শিক্ষিত বেকারদের মাসিক ভাতা ঘোষণার পর গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্রই আবেদনকারীদের ভিড় বেড়েছে। যুবসাথী প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভায় খোলা শিবিরগুলিতে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। আবেদনকারীদের তালিকায় যেমন মাধ্যমিক পাশ টোটোচালক রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন উচ্চশিক্ষিতরাও।

হুগলির পাণ্ডুয়ার রেগুলেটেড মার্কেটে আয়োজিত শিবিরে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিতে দেখা গেল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শৌভিক আচার্যকে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর কল্যাণী থেকে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করছেন কিন্তু এখনও কর্মসংস্থান হয়নি।

মাত্র দেড় হাজার টাকার জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শৌভিকের বক্তব্য স্পষ্ট—প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ ও যাতায়াতে যথেষ্ট খরচ হয়; এই ভাতা সেই ব্যয় সামলাতে সাহায্য করবে। তাঁর মতে, শিল্পায়ন ছাড়া স্থায়ী কর্মসংস্থান সম্ভব নয়, তবে এই আর্থিক সহায়তাও বেকারদের জন্য উপকারী।


এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। পাণ্ডুয়ার তৃণমূল বিধায়ক রত্না দে নাগ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নতুন প্রজন্মের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পালের অভিযোগ, শিল্পোন্নয়নের বদলে ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে বেকারদের লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান ইস্যুকে ঘিরে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।