কলকাতার পর পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ মান্ডি খড়গপুর। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পেঁয়াজ কেনা বেচা চলে এখানে। খড়গপুর থেকে এক সময় পেঁয়াজ যেত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এমনকি বাংলাদেশেও।
কিন্তু ব্যবসার জায়গা ছোট হয়ে যাওয়ায় এবং শহরের জনবহুল এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হওয়ার কারণে খড়্গপুরের পেঁয়াজ মান্ডিতে ভিন এলাকার গাড়ি ঢোকা কমে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা অনেকটাই মার খায়। বিকল্প জায়গার সন্ধানে ২০১৬ সাল থেকেই তৎপর খড়গপুর ওনিয়ন এন্ড পটেটো মার্চেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু প্রশাসনিক ঢিলেমিতে জায়গা খোঁজার সেই কাজ চলে যায় বিশ বাঁও জলের তলায় ।
রাজ্যে পালাবদলের পরে একই দাবি নিয়ে খড়গপুর সদরের বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের শরণাপন্ন হন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। সংগঠনের অন্যতম সদস্য জাভেদ আহমেদ খান বলেন, ৯ জুন আমরা দিলীপবাবুর সঙ্গে দেখা করি। আমাদের দাবি জানাই ।
পরের দিন মহকুমা শাসকের দপ্তরে একটি বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকেই দিলীপবাবু আমাদের প্রসঙ্গটি মহকুমা শাসকের কাছে তোলেন এবং বিকল্প জায়গার জন্য মহকুমা শাসককে দ্রুত জেলাশাসকের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা বলেন । মহকুমা শাসক ওই দিনই জেলাশাসকের কাছে খড়্গপুরের চৌরঙ্গী সংলগ্ন এলাকায় জমি পাওয়া যায় কি না সেই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন।
জাভেদ বলেন, এর আগে আমাদের নারায়ণগড়ের মকরামপুরে জমি দেখানো হয়েছিল। আমাদের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জন ব্যবসায়ী আছেন। তাদের সকলের ওই জায়গায় হত না। তাছাড়া যোগাযোগেরও অনেক অসুবিধে ছিল। তাই আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমরা বিদ্যাসাগর শিল্পতালুক বা রূপনারায়ণপুরে জমি চাইছি। প্রয়োজনে আমরা জমি কিনে নেব।
আমাদের প্রায় ১০ একর জমি হলে ভালো হয়। আমরা এমন জায়গা চাইছি যেখানে ভারী ভারী পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক ঢুকতে বা বেরোতে অসুবিধে না হয়। বর্তমানে খড়গপুর শহরের গোলবাজারে যেখানে পেঁয়াজ মান্ডি আছে সেখানে ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালপত্র নামানো ওঠানো হলে বহু মানুষের অসুবিধে হয়। আমরা কারো অসুবিধে না ঘটিয়ে কাজ করতে চাই। শহরের বাইরে মান্ডি নিয়ে গেলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও ভালো হবে।
অ্যাসোসিয়েশনের আরেক সদস্য রাজকুমার সাহু বলেন, বিধায়ক এবং প্রশাসন যে তৎপরতার সঙ্গে আমাদের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন তাতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, দ্রুত আমাদের দাবি মিটবে। আমরা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই ।