দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন মমতা : দিলীপ ঘোষ

স্নেহাল সেনগুপ্ত

 

‘ওরা দেশকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুধু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার জন্য বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গাদের বাংলায় ঢুকতে দিয়েছে। এবার এই দল (তৃণমূল কংগ্রেস) অস্তিত্বই হারাবে।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে এই তীব্র আক্রমণ করে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ রাজ্যের শাসন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সূচনা করেন।


গত এক দশকে বাংলায় বিজেপির উত্থানের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ হতে দিয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করার সামিল। একই সঙ্গে তিনি পঞ্চায়েত ব্যবস্থারও কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাংলায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা এখন দুর্নীতির আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে কাজ করার পর রাজনীতিতে উঠে আসা এই বিজেপি নেতার কাছে বিরোধী রাজনীতি থেকে প্রশাসনের দায়িত্বে আসা একেবারেই আলাদা চ্যালেঞ্জ। গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে তিনি এখন রাজ্যের গ্রামীণ সড়ক, আবাসন, পয়ঃনিষ্কাশন, গ্রামের পরিকাঠামো এবং স্থানীয় স্বশাসন সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

দ্য স্টেটসম্যান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ জানান, কীভাবে তিনি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে চান, সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে চান এবং গ্রামীণ প্রশাসনে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে চান। তিনি জানান, সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আবার চালু করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছয় তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র সরকারের অনেক প্রকল্প এখানে ছিল। সেগুলো কার্যকর করার জন্য এখন সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাস্তা, বাড়ি বা শৌচালয়— সব ধরনের কাজই এখান থেকে শুরু হবে।’ তিনি আরও জানান, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই বিধায়ক এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। “গ্রামের স্তরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দিতে চাই। গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ করতে গেলে জেলা প্রশাসন, পঞ্চায়েত এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা খুবই জরুরি,” বলেন ঘোষ।

আলোচনায় উঠে আসে দলের সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপির বর্তমান অবস্থানও। তৃণমূল থেকে নেতাকর্মীদের দলে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘এবার আমরা খুব সাবধানে দরজা বন্ধ করেছি। তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত যারা, তাদের জন্য আমাদের দরজা পুরোপুরি বন্ধ। আমাদের তাদের দরকার নেই। আগে তাদের দলে নিয়ে আমরা ভুগেছি। সেই ভুল আর করতে চাই না।’
কথোপকথনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

৫৮ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক স্পিকারের কাছে আবেদন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার চেষ্টা করেছেন—এই দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঘোষ বলেন, এটা পুরোপুরি তৃণমূলের বিষয়। তিনি বলেন, ‘­এটা ওদেরই দেখা উচিত। এটা আমাদের দায়িত্ব নয়। মানুষ আমাদের সরকার চালানোর দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা উন্নয়নের কাজেই মন দিচ্ছি। তৃণমূল কী করবে, সেটা ওদের ব্যাপার।’
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আর কয়েকদিন থাকবে। ঠিক কতদিন থাকবে জানতে হলে ভালো কোনো জ্যোতিষীর কাছে যান, তারা বলতে পারবে। তবে একটা কথা বলি—এই দল শেষ হয়ে যাবে।’

বিরোধী দলনেতার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন? তৃণমূলকে জিজ্ঞেস করুন। বিষয়টা স্পিকারের কাছে আছে। বিধানসভায় যিনি প্রমাণ করবেন, মানুষ যাকে মেনে নেবে, তিনিই নেতা হবেন। এটা পুরোপুরি তাদের ব্যাপার। আমার কিছু বলার নেই।’
পঞ্চায়েত স্তরের সমস্যাগুলিও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েতে অনেক সমস্যা আছে— রাস্তাঘাট খারাপ, বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কলেজ, স্কুল, হাসপাতাল—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলায় অনেক সমস্যা আছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তৃণমূল—মানুষ সেটা সরিয়ে দিয়েছে। বাকি আমরা সামলে নেব।’ প্রশাসনিক পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে দিলীপ ঘোষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সীমান্ত পরিকাঠামো প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।