আর কাটমানি সংস্কৃতি নয়, বাংলায় সিন্ডিকেট রাজ পুরোপুরি ধ্বংস হবে: দিলীপ ঘোষ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার পরই রাজ্যে ‘কাটমানি সংস্কৃতি’ এবং ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বন্ধ করার বার্তা দিলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরে তিনি জানান, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়া দিলীপ ঘোষ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের উপস্থিতিতে। অনুষ্ঠানে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের ২০ জন মুখ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছি। অবশেষে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে।’


তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলায় পরিবর্তন অনেক আগেই প্রয়োজন ছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেশী রাজ্যগুলি যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়েছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেটের জালে আটকে পড়েছিল।

দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। সাধারণ মানুষ কষ্ট পেলেও অনেক সময় কিছু করার অবস্থায় ছিলেন না। এবার মানুষ বিজেপির উপর ভরসা রেখেছেন। আমরা নিশ্চিত করব, যাতে বাংলায় কাটমানি সংস্কৃতি আর না থাকে এবং সিন্ডিকেট রাজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়।’

তিনি আরও জানান, তৃণমূল সরকারের ‘অপশাসনের’ বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই বিজেপি কর্মীদেরও যথাযথ সম্মান জানাবে নতুন সরকার। শপথগ্রহণ মঞ্চে নিহত কর্মী-সমর্থকদের স্মরণে ফুল দিয়ে সাজানো বিশেষ সাদা পটভূমিও তৈরি করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গুলি করে খুন করে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ জায়গা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল, যিনি একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বিশেষ পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনিই মন্ত্রিসভার একমাত্র মহিলা সদস্য। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে তিনি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন।

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মতুয়া অধ্যুষিত এই অঞ্চল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ কেন্দ্রের আদিবাসী নেতা ক্ষুদিরাম টুডুকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যতম তরুণ মুখ নিশীথ প্রামাণিকও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিশীথ ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।