সিবিএসই ওএসএম-ব্যবস্থায় অসঙ্গতির দায়ভার নিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

সিবিএসইর নতুন অন-স্ক্রিন-মার্কিং ব্যবস্থা ওএসএম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সিবিএসইর ফল প্রকাশের পর থেকেই নম্বরের গরমিল, উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি অস্পষ্ট হওয়া, উত্তরপত্রের মূল্যায়নে ত্রুটির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন বহু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সিবিএসই আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘সমস্ত দায় আমি নিচ্ছি। সমস্যার সমাধান করা হবে।’
পুনর্মূল্যায়ন ও যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে প্রযুক্তিগত এবং পেমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানের জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধান এদিন সিবিএসইর সদর দপ্তরে সিবিএসই কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকের শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার মূল্যায়ন ও  পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সমস্ত সমস্যার  সমাধান করতে বোর্ড কাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রায় ১৭ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর মোট ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। স্ক্যান করা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি পৃষ্ঠা। তিনি স্বীকার করে নেন, এত বড় পরিসরে প্রথমবার এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে।
 
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, কোনও ছাত্রছাত্রীর অভিযোগ উপেক্ষা করা হবে না। তিনি বলেন, ‘সিবিএসই এই প্রথমবার এটি ব্যবহার করেছে এবং কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে। আমি এর দায় নিয়ে আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে একটি সমাধান খুঁজে বের করা হবে। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। আমরা কোনো শিক্ষার্থীর জিজ্ঞাসা অমীমাংসিত রাখব না।’ তিনি আরও বলেন যে, অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থাটিকে আরও নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে। চারটি সরকারি ব্যাঙ্ক —এসবিআই, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং কানারা ব্যাঙ্কের পেমেন্ট ব্যবস্থা সিবিএসই পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে, এই সমস্ত অসঙ্গতির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দায়ী হিসেবে যদি কেউ  প্রমাণিত হন, তিনি সিবিএসইর ভেতরে বা বাইরে যে পদেই থাকুন না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না।’  ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও জানান, প্রযুক্তিগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
 
চলতি বছরে প্রথমবার দ্বাদশ শ্রেণির খাতার মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন-মার্কিং ব্যবস্থা চালু করে সিবিএসই। বোর্ডের দাবি, মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতেই এই ব্যবস্থা আনা হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। গত ১৩ মে সিবিএসইর ফলপ্রকাশের পর থেকেই মূল্যায়ন নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হন পরীক্ষার্থীরা।
অনেক পড়ুয়ার দাবি, আপলোড করা উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি এতটাই ঝাপসা ছিল যে তা পড়ার অযোগ্য। কারও কারও ক্ষেত্রে উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি, কোথাও আবার নম্বরের যোগফলে ভুল ধরা পড়েছে। পুনর্মূল্যায়নের সময়ও সার্ভারের বিভ্রাট এবং পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভোগান্তি চরমে ওঠে বলে অভিযোগ। বিতর্কের জেরে নড়েচড়ে বসে সিবিএসই বোর্ড।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যথাযথ পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ছাড়াই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীকে। বুধবার রাহুল গান্ধী বলেন, সিবিএসই পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এই গোটা কেলেঙ্কারির পেছনের সত্য উদঘাটনের জন্য একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের দাবি জানান তিনি।
এর জবাবে পাল্টা শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘লোকসভার বিরোধী দলের নেতাকে হতাশ দেখাচ্ছে এবং তিনি সংস্কার ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিরোধিতা করছেন।এভাবে সমালোচনা করে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলা উচিত নয়।’ তিনি জানান, প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।