সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে মনোনয়নপত্রেই

প্রতীকী চিত্র

ভোটের আগে ভুয়ো প্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল দেশের নির্বাচন কমিশন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নিজেদের সব সমাজমাধ্যম (সোশ্যাল মিডিয়া) অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।

কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে তাঁদের কতগুলি স্বীকৃত (অফিশিয়াল) অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলি কোন কোন প্ল্যাটফর্মে খোলা এবং কোনগুলি তাঁদের ব্যক্তিগত বা প্রচারমূলক ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর ফলে ভোটের সময় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বা ভুয়ো প্রচার চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন।

শুধু প্রার্থী নয়, রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। সমাজমাধ্যম বা ইন্টারনেটে কোনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে অনুমোদন নিতে হবে মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির (এমসিএমসি) কাছ থেকে। এই নিয়ম ভাঙলে তা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কমিশন।


জেলা স্তরে এমসিএমসি-র কাছে বিজ্ঞাপনের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে, স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের সদর দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন জানাতে হবে। কমিশন আরও জানিয়েছে, এমসিএমসি-র সিদ্ধান্তে কেউ অসন্তুষ্ট হলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) নেতৃত্বে গঠিত আপিল কমিটির কাছে আবেদন করা যাবে।

কমিশনের নজরদারি কেবল বিজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ নয়। ভোটের আগে সংবাদমাধ্যমে টাকা দিয়ে প্রচার বা ‘পেইড নিউজ’ ছড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবে এমসিএমসি। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে সমাজমাধ্যমে কত খরচ হয়েছে, তার হিসাবও দিতে হবে। ভোট শেষ হওয়ার ৭৫ দিনের মধ্যে এই খরচের পূর্ণ বিবরণ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক
করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, পুলিশ নোডাল অফিসার এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে বিভিন্ন সমাজমাধ্যম সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ভুয়ো খবর এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচনের সময় সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অনেক বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।