তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটায় চলছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ

অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্দেশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি কলকাতাতেও বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু করেছে পুরসভা। রবিবার সকালে তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করে কলকাতা পুরসভা। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে,  তিনটি অবৈধ নির্মাণের সঙ্গেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। বেলেঘাটার একটি অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম জড়িত। অন্য দু’টি জায়গায়ও স্থানীয় কাউন্সিলর ও বরো চেয়ারম্যানের যোগ থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও রাজু বা কাউন্সিলর এবং বরো চেয়ারম্যান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই নির্মাণগুলি ভাঙতেই বুলডোজার আনা হয়।

অভিযোগ, পুরসভার অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোথাও পাঁচতলা বা ছ’তলা ভবন তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও একাধিক ব্লকে নির্মাণকাজ চলছিল। এই বেআইনি অংশ ভাঙতে ব্যবহার করা হচ্ছে বুলডোজারও। পুরসভা জানিয়েছে, বৈধ নির্মাণে কোনও হাত দেওয়া হবে না, শুধুমাত্র বেআইনি অংশই ভাঙা হবে। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। ওই ধারায় পুর কমিশনার বেআইনি নির্মাণ বন্ধ বা ভাঙার নির্দেশ দিতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিক ব্যবস্থা না নিলে পুরসভা নিজেই ভাঙার কাজ করতে পারে।


ঘটনাস্থলে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে তিনি পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করেন। বেআইনি নির্মাণ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগও শোনেন। কীভাবে অনুমতি ছাড়াই বহু বছর ধরে একাধিক বহুতল তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যাখ্যাও চান মন্ত্রী।

পুরমন্ত্রী বলেন, অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্তদের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা পুরকর্মী ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমরা অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছি। এই সব নির্মাণ যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যেমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনই দায়িত্বে থাকা পুরসভার আধিকারিক-কর্মীরাও ছাড় পাবেন না।’ অগ্নিমিত্রার নিশানায় প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, ‘এই সব অবৈধ নির্মাণ কী ভাবে তৈরি হল? পুরসভা বা আগের মন্ত্রী কি দেখেননি? সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ নির্মাণটির সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু।  নির্মাণের বাইরে নোটিস টাঙানো রয়েছে, তাতে লেখা ডিসেম্বর মাসে পুর আধিকারিকেরা নির্মাণ পরিদর্শন করেন। সেটিকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু তার পরেও কেন ওই নির্মাণ তৈরির কাজ বন্ধ হয়নি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।