শালিমার স্টেশন সংলগ্ন নেপালি পাড়ায় রেলের উচ্ছেদ অভিযান, চলল বুলডোজার

শালিমার রেল স্টেশন সংলগ্ন নেপালি পাড়ায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বুলডোজার দিয়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। অভিযান চলাকালীন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য গোটা এলাকায় বিপুল সংখ্যক রেল সুরক্ষা বাহিনী(আরপিএফ) ও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমি দখল করে সেখানে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণ গড়ে তোলা হয়েছিল। বহুবার নোটিস দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত অবৈধ দখলমুক্ত করতে রেল প্রশাসনের তরফে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

এদিন অভিযান চলাকালীন বুলডোজারের সাহায্যে একাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। রেল প্রশাসনের দাবি, দখলমুক্ত হওয়া জমি ভবিষ্যতের রেল প্রকল্প ও নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহার করা হবে। হঠাৎ এরকম উচ্ছেদ অভিযানে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কোনও রকম বাধা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, রেলের জমিতে অবৈধ দখলদারি রুখতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


<iframe width=”381″ height=”677″ src=”https://www.youtube.com/embed/rz19kBk-7nw” title=”অবৈধ দখল সরাতে শালিমারের নেপালি পাড়ায় রেলের অভিযান” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>

তবে এই ঘটনা প্রথম নয়। চলতি বছরে রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরেই বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে রেল প্রশাসন। কিছুদিন আগে শহরের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশন পার্ক সার্কাস স্টেশনেও রাতভর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি ও প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্টল, দোকান এবং দখলদারি সরাতে এই বিশেষ অভিযান চালায় রেল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স, সরকারি রেল পুলিশ, রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সেদিন অভিযান চালিয়েছিলেন।

রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পার্ক সার্কাস স্টেশন চত্বরে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা চলছিল। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াতেও বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হত। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত ঝুঁকিও বাড়ছিল। বহুবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযান চলাকালীন বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্রের সাহায্যে একে একে সমস্ত অবৈধ কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়।