পশু নিধন নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারির দাবি, কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়েরের অনুমতি

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

গবাদি পশু নিধন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের মধ্যেই এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন আবেদন জমা পড়ল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গে কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে আদালতে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকার গবাদি পশু নিধন নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই নির্দেশিকায় ২০১৮ সালের কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়২০২২ সালের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং পশ্চিমবঙ্গ পশু নিধন নিয়ন্ত্রণ আইন১৯৫০-র উল্লেখ করা হয়েছে। এই আবহেই আদালতে  নতুন আবেদনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন আইনজীবী মেঘনাদ দত্ত যদিও তিনি আবেদনকারী ননআবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন জনৈক বি কে শর্মা। তাঁর পক্ষ থেকেই আদালতে মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত আবেদনকারীকে নিয়মমাফিক মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেয়। আবেদনকারীর দাবিরাজ্যের সমস্ত কসাইখানায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী১৪ বছরের কম বয়সী কোনও গবাদি পশুকে হত্যা করা যাবে না। এছাড়াও পশু চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া পশু নিধন করা যাবে না এবং খোলা জায়গায় পশু হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মামলাকারীর বক্তব্যপর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এখনও বহু জায়গায় নিয়ম ভেঙে কমবয়সী গবাদি পশু হত্যা করা হচ্ছে। তাই দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও পশু নিধন সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি তোলা হয়েছে।


উল্লেখ্যকয়েকদিন আগেই রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেপঞ্চায়েত বা পুর প্রশাসনের অনুমতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের শংসাপত্র ছাড়া গবাদি পশু নিধন করা যাবে না। পাশাপাশি ১৪ বছর বয়সের নিচে কোনও পশু নিধনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছেশুধুমাত্র সরকারি কসাইখানাতেই পশু নিধন করা যাবে এবং খোলা জায়গায় এই ধরনের কাজ আইনত দণ্ডনীয়। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা ও শাস্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবিআদালতের নির্দেশ ও বিদ্যমান আইন মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।