সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে আসা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বৃহস্পতিবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেল। আর সেই নিরাপত্তার বলয়ই হতাশ করল দিল্লি থেকে আসা এক মহিলাকে, যিনি দাবি করেছেন যে তিনি অভিষেককে ডিম ছোড়ার উদ্দেশ্যেই কলকাতায় এসেছিলেন।
ভবানী ভবনের সামনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই মহিলা, উদিতা দাস নামে পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছেন। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই তিনি এই পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে কড়া নিরাপত্তার কারণে সেই সুযোগ আর পাননি।
উদিতা দাস বলেন, ‘আমি দিল্লিতে থাকি। শুধু অভিষেককে ডিম ছুড়ব বলেই এখানে এসেছিলাম। পচা ডিম নিয়ে আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। অনেকক্ষণ ধরে আমি এবং আমার স্বামী অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই করা গেল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে চারদিকে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল, তাতে তাঁর কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দর থেকে কালীঘাট, তারপর ভবানী ভবন— সর্বত্রই কড়া নিরাপত্তা ছিল। এত নিরাপত্তার মধ্যে ডিম ছোড়ার কোনও সুযোগই পাইনি।’
উল্লেখ্য, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সিআইডির সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভবানী ভবন চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন করা হয়েছিল। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে জনতার ক্ষোভ ও বিক্ষোভের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েকদিন আগে সোনারপুরে একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তাঁর কনভয়ের দিকে ডিম নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন আরও সতর্ক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে উদিতা দাসের এই দাবি বা তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ভবানী ভবনের বাইরে তাঁর উপস্থিতি এবং মন্তব্য ঘিরে অবশ্য কৌতূহল তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিকে সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড ঘিরেই দিনের মূল রাজনৈতিক গুরুত্ব বজায় রয়েছে। তদন্তকারীরা এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন কোনও তথ্য বা সূত্র পান কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।