ভারতের উপর মাঝেমধ্যেই হামলা করে থাকে পাকিস্তান। চিনও অরুণাচলে উৎপাত বাড়িয়ে চলেছে। কিন্তু এখন কি আর যুদ্ধ মাঠে সীমাবদ্ধ রয়েছে? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ যুগ এখন এগিয়ে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে নানা ভিডিও এবং তথ্য দিয়ে দেশকে কালিমালিপ্ত করা যায়। শুধু তাই নয়, প্রযুক্তির জেরে এখন বহু তথ্য শত্রুপক্ষ জেনে নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সদা সতর্ক থাকতে হবে সেনাবাহিনীকে। আর তাই এখন আর যুদ্ধ মাঠে সীমাবদ্ধ নেই। দীপাবলির প্রাক্কালে বাগডোগরা এয়ার ফোর্স স্টেশন পরিদর্শন করে জওয়ানদের সতর্কবার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
এদিকে শনিবার বাগডোগরায় এসে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলির আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কারণ সাইবার হামলা, ড্রোন হামলা এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষিতে রাজনাথ সিং সতর্ক করে বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র আর শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার হামলা, ড্রোন হানার পাশাপাশি ভুল তথ্য বা ন্যারেটিভ ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরির মতো হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার শুরু করেছে শত্রুরা। তার মোকাবিলায় জওয়ানদের সর্বোচ্চ স্তরের অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। প্রায়ই দেখা যায় শত্রুপক্ষ মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে আমাদের দুর্বলতাকে পুঁজি করার চেষ্টা করে। সমাজমাধ্যমের অপব্যবহার করে তারা স্থানীয় মানুষ এবং আমাদের জওয়ানদের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই আপনাদের ভূমিকা শুধু সাধারণ জওয়ানের সীমানার মধ্যে আটকে থাকে না।’
অন্যদিকে ডোমেন অ্যাওয়্যারনেস, সাইবার রেজিস্ট্যান্স এবং ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটির ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার বার্তা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করে থাকে শত্রুপক্ষ। তাই রাজনাথ সিংয়ের বার্তা, ‘বায়ুসেনা কর্মীরা দেশের পূর্ব সেক্টরের শক্তিশালী বর্ম হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের সদা প্রস্তুত থাকার মানসিকতাই এই অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে দেশের স্টার্ট-আপ ও দেশীয় শিল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর বায়ুসেনার আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করা এবং সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতা অর্জন করা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।’
তাছাড়া অগ্নিবীরদের জন্য নেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাজনাথ সিংয়ের কথায়, ‘দুবছরের মেয়াদ শেষের পর সমস্ত অগ্নিবীর তাঁদের ইচ্ছা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিয়মিত জওয়ান হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি দেশের যুবসমাজ এবং সেনার কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আর জওয়ানরা যখন সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন তখন গোটা দেশ তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছে।’