কাজে গিয়ে নিখোঁজ, ১৫ দিন পর ছত্তীশগড়ের জঙ্গলে মিলল দুর্গাপুরের যুবকের পচাগলা দেহ

প্রতীকী চিত্র

ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন দুর্গাপুরের এক যুবক (Durgapur Youth Found)। প্রায় ১৫ দিন পর ছত্তীশগড়ের কাঙ্কের জেলার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হল তাঁর পচাগলা দেহ (Durgapur Youth Found)। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, কী ভাবেই বা তিনি কাজের জায়গা থেকে এত দূরের জঙ্গলে পৌঁছলেন—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। মৃতের সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ কিছুটা স্পষ্ট হবে বলে তদন্তকারীদের আশা।

মৃত যুবকের (Durgapur Youth Found) নাম সুকুমার কিস্কু, বয়স ৩৩। কাঁকসা থানার বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের সুতাডাঙা এলাকার বাসিন্দা তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ জুলাই দুর্গাপুর-ফরিদপুর এলাকার এক ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজে ছত্তীশগড়ের কাঙ্কের জেলায় গিয়েছিলেন সুকুমার। সেখানে বোরিংয়ের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

এর দু’দিন পর, ২৬ জুলাই থেকেই সুকুমারের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পরিবারের দাবি। তাঁর সঙ্গে কাজে যাওয়া সহকর্মীরা পরে বাড়ি ফিরে এসে পরিবারের লোকজনকে জানান, সুকুমারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরই কাঁকসা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবার। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।


আরও পড়ুন: গ্রেপ্তারির খাঁড়া মাথায়, হাইকোর্টেও ধাক্কা টুলুর! বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস থেকে ফিরল মামলা

এরই মধ্যে ছত্তীশগড়ের পুলিশ জঙ্গলের ভিতর থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধারের (Durgapur Youth Found) খবর দেয়। দেহটি পচে যাওয়ায় প্রথমে পরিচয় জানা যায়নি (Durgapur Youth Found)। পরে তদন্তকারীদের মাধ্যমে সুকুমারের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছয়। আত্মীয়েরা গিয়ে দেহটি শনাক্ত করেন।

সুকুমারের ভাই সুখদেব কিস্কুর কথায়, ‘দুর্গাপুর-ফরিদপুরের এক ঠিকাদার দাদাকে কাজে নিয়ে গিয়েছিল। পরে সহকর্মীরা বাড়ি ফিরে জানায়, দাদাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেছিলাম। কাজের এলাকা থেকে দাদার ক্ষতবিক্ষত, পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে।’

আরও পড়ুন: ‘চটি চাটা’ বনাম ‘বুট চাটা’! হাইকোর্টে কল্যাণ-এজি সংঘাত, পরিস্থিতি সামলাতে নামলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

তবে সুকুমারের মৃত্যু ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে। কাজের জায়গা থেকে তিনি কী ভাবে জঙ্গলে গেলেন? তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল? দেহে আঘাতের চিহ্ন কেন? আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি। ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ইতিমধ্যেই সুকুমারের সঙ্গে কাজে যাওয়া সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তাঁর শেষ অবস্থান এবং নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনাক্রম জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

দেখুন: ‘কী পাওয়া গেছে, এখনই উল্লেখ করব না’, NRS কাণ্ডে শারদ্বত