দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারিতে বাধা রইল না আর, শর্তসাপেক্ষে স্বস্তি অদিতি মুন্সির

আইন বহির্ভূত সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য গোপন ও নির্বাচনী হলফনামায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদানের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তৃণমূল বিধায়ক দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। একই মামলায় চার মাসের সন্তানের কথা বিবেচনা করে অদিতি মুন্সিকে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার আদালতে জোর সওয়াল করেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি গোপন করা এবং নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তদের কাছে ১০০ কোটিরও বেশি মূল্যের সম্পত্তি রয়েছে এবং ৯০টিরও বেশি সম্পত্তির হদিস মিলেছে। দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একটি সংস্থায় বিপুল বিনিয়োগ এবং জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়।

অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও জানান, বাজারমূল্য ও নথিভুক্ত মূল্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। একাধিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি সম্পত্তি দেবরাজ চক্রবর্তীর নামে এবং তিনটি সম্পত্তি অদিতি মুন্সির নামে রয়েছে। কালিম্পঙে আত্মীয়ের নামে থাকা প্রায় পাঁচ একর জমিও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়।


তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগগুলির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, জমি হস্তান্তর ও লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত নথি বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অর্থ প্রদানকারীদের আর্থিক উৎসও খতিয়ে দেখার আর্জি জানান তিনি।

শুনানির সময় বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর মন্তব্য,”মামলার প্রকৃতি এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি এ-ও পর্যবেক্ষণ করেন যে, অভিযোগের পরিধি কেবল একজন ব্যক্তিকে প্রতারিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

শেষ পর্যন্ত আদালত জানায়, তদন্তের স্বার্থে দেবরাজ চক্রবর্তীর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করলাম।

অন্যদিকে, অদিতি মুন্সির চার মাসের সন্তানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তাঁর পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাগুইআটি থানার এলাকার মধ্যে প্রবেশ করা যাবে না। পাশাপাশি কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করা যাবে না এবং নিজের বর্তমান ঠিকানা ও যোগাযোগের নির্দিষ্ট ফোন নম্বর যেখানে ফোন করলে তদন্তকারী আধিকারিকরা যোগাযোগ করতে পারবেন।