রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার এনিউমারেশন ফর্ম বিলির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে শুনানি পর্ব। এই শুনানিতে ডেকে পাঠানো নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আতঙ্কের অভিযোগ উঠছে। সেই আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠল এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে।
মৃত ব্যক্তির নাম নাজিতুল মোল্লা (৬৮)। তিনি জয়নগরের গড়দেওয়ানি পঞ্চায়েত এলাকার উত্তর ঠাকুরের চক এলাকার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর সেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
২০ ডিসেম্বর নাজিতুল মোল্লা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে ডায়মন্ড হারবারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ৩১ ডিসেম্বর তাঁকে এসআইআর শুনানির জন্য হাজির হওয়ার নোটিস দেওয়া হয়। ওই দিন পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বন্ডে স্বাক্ষর করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, অসুস্থ অবস্থায় নাজিতুল মোল্লা নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থাতেই শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন। শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। ২ জানুয়ারি তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। নাজিতুল মোল্লার পরিবারের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় নাম না থাকার আশঙ্কাই তাঁর মানসিক ও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটিয়েছে। তাঁদের মতে, এই আতঙ্কই মৃত্যুর প্রধান কারণ।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। জয়নগরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শাহাবুদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এসআইআর নামের ষড়যন্ত্রের ফলে একের পর এক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। এর দায় নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকেই নিতে হবে।’ যদিও এ বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার জেরে এসআইআর শুনানির মানবিক দিক ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
অন্যদিকে তারকেশ্বরের বিডিও অফিসে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলেন আর এক বৃদ্ধ। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভরতচন্দ্র সামন্ত অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রীকে নিয়ে টোটোয় করে শুনানিতে আসছিলেন। বিডিও অফিসের সামনে টোটো থেকে নামতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান তিনি। তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বয়স্কদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি হচ্ছে না। প্রশাসনের তরফে পরে মাইকিং করে জানানো হয়, অসুস্থ ও প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হবে।