আর হাতে ১৩ দিন বাকি। তারপরই রাজ্যজুড়ে মেতে উঠবে সকলে দুর্গাপুজোর আনন্দে। দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই বেড়াতে যান। বিশেষ করে লম্বা ছুটি মেলায় উত্তরবঙ্গে বেড়াতে যান পর্যটকরা। শীতের হিমেল হাওয়ায় গা ভাসিয়ে চা-বাগানের বুক চিড়ে পৌঁছে যেতে চান শৈলরানি কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকে। হ্যাঁ, পাহাড়ের রানী দার্জিলিংয়ে। তার সঙ্গে যদি একটু নস্টালজিয়া যুক্ত হয়ে পড়ে তাহলে তো সোনায় সোয়াগা। এখন তো শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি টয়ট্রেনে করে পৌঁছে যাওয়া যায় দার্জিলিংয়ে। এই আবহে দুর্গাপুজোর মরশুমে পর্যটকদের কথা ভেবে পাহাড়ে ৬টি নতুন জয়রাইড চালুর কথা জানাল, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। আর টিকিট পেতে খুব একটা সমস্যা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই পর্যটকদের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে। শুধু ট্রেনে ওঠা সময়ের অপেক্ষা। মহাষষ্ঠীর দিন থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করবে পাহাড়ে। এই কথা বেশ ভালভাবে জানে রেল কর্তৃপক্ষ। টিকিটের সংখ্যা সেই সাক্ষ্য বহন করছে। তাই আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। একইসঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য। এই বিষয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, পর্যটকদের পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিষেবার মধ্যে দার্জিলিং এবং ঘুম স্টেশনের মধ্যে ডিজেল ইঞ্জিন চালিত চারটি রাউন্ড ট্রিপ জয়রাইড রাখা হয়েছে। আর এই সফরের প্রস্তাবিত ভাড়া ৮০০ টাকা।
এখানেই শেষ নয়, কার্শিয়াং এবং মহানদীর মধ্যে চালু করা হচ্ছে দুটি বিশেষ রাউন্ড ট্রিপ। তার মধ্যে ‘রেড পান্ডা’ নামে প্রথম স্টিম ইঞ্জিন চালিত ট্রিপ থাকছে। ট্রেনটি কার্শিয়াং থেকে ছেড়ে মহানদী হয়ে ফিরবে। যার ভাড়া ১ হাজার ৫৩০ টাকা। দ্বিতীয় ডিজেল চালিত রাউন্ড ট্রিপ ‘মুক্ত ধারা’ বিকেলে কার্শিয়াং থেকে ছেড়ে মহানদী থেকে ফিরবে। এক্ষেত্রে ভাড়া ১ হাজার ৩০ টাকা। আবার পর্যটন মরশুমে জয়রাইডও বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ট্রেন চালকের ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সাতটি জয়রাইড, জঙ্গল সাফারি-সহ নানা পরিষেবা মিলবে।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে সূত্রে খবর, একটি ডিজেল ইঞ্জিনে দুজন এবং একটি স্টিম ইঞ্জিনের জয়রাইড চালাতে চারজন চালকের দরকার। তাই নতুন পরিষেবা চালু হলে কর্মীদের উপর যাতে চাপ না পড়ে তার জন্য ইতিমধ্যে অন্তত ১৫ জন চালক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরি বলেন, ‘নতুন চালক নিয়োগের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শেষ হবে। নতুন জয়রাইড এবং কর্মী নিয়োগ হয়ে গেলে উৎসবের দিনগুলিতে পাহাড়ের পর্যটন নতুন মাত্রা পাবে।’