‘বিজেপির সুরে নাচছে’, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিয়ে মন্তব্য মমতার

বারাসতের কাছারি ময়দানের জনসভায় মমতা।

বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মোটামুটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও, দ্বিতীয় দফায় কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। তবে এসবের মধ্যেও দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সকালবেলা বুথ পরিদর্শন।

ভোটের দিন ভোর থেকেই তিনি ভবানীপুরের চেতলা ও চক্রবেড়িয়া এলাকার একাধিক বুথ ঘুরে দেখেন। সেখানে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে আনা এই পর্যবেক্ষকরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছেন।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, তাঁর এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা, যিনি ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবেও পরিচিত। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর এলাকার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন তিনি ফলতা, মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিয়েছেন এবং কোথাও গন্ডগোলের আশঙ্কা দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।


তবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তৃণমূলের তরফে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছিল, যদিও তা খারিজ হয়ে যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই অসন্তোষের প্রতিফলন স্পষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, “নির্বাচন কমিশন খোলাখুলিভাবে আমাদের উপর অত্যাচার করছে। বাইরে থেকে আনা পুলিশরা বিজেপির সুরে কাজ করছে, ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে।” চক্রবেড়িয়ায় দলীয় পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। সবমিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধছে।