২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দক্ষ আইপিএস আধিকারিক দময়ন্তী সেন। মমতার জমানায় এই ঘটনায় মুখ খোলার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির খাড়া নেমে এসেছিল। কার্যত দীর্ঘদিন প্রশাসনের অন্দরে কোণঠাসা থাকার পর ফের তাঁকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে গঠিত নতুন কমিশনে দময়ন্তী সেনকে সদস্য-সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছেন।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে সন্দেশখালি, কসবা, বগটুই-সহ একাধিক ঘটনায় মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। সেই সব ঘটনার তদন্তে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে কমিশন কাজ শুরু করবে।
দময়ন্তী সেন বরাবরই মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন তিনি। ১৯৯৬ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার কলকাতা পুলিশের প্রথম মহিলা জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে স্পেশাল কমিশনার পদেও কাজ করেন।
পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার তদন্তে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। দ্রুত তদন্ত সম্পূর্ণ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। তবে এরপর আর বড় কোনও গুরুত্বপূর্ণ তদন্তভার তাঁকে খুব একটা দেওয়া হয়নি। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট কয়েকটি ধর্ষণ মামলার তদন্তে তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়। এছাড়াও রসিকা জৈন মৃত্যুরহস্যের তদন্তেও যুক্ত ছিলেন তিনি। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের এডিজি আইজিপি পদমর্যাদায় কর্মরত দময়ন্তী সেনের উপরই এবার নারী নির্যাতন সংক্রান্ত পুরনো অভিযোগ ও মামলার জট খুলে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব পড়ল।