কাঁচরাপাড়ার স্কুল থেকে উদ্ধার রাশি রাশি টাকা, দুবারে পৌনে দু’কোটির হদিশ

এ যেন গুপ্তধনের রহস্যের পর্দাফাঁস। একটি বেসরকারি স্কুল থেকে রাশি রাশি টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে বিপুল টাকা দু’ভাগে উদ্ধার হয়েছে। একসপ্তাহ আগে কাঁচরাপাড়ার বেসরকারি স্কুল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ১ কোটি টাকার বেশি। আবারও ওই একই স্কুল থেকে উদ্ধার হলো আরও বিপুল পরিমাণ টাকা। একটি স্কুল থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আগেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁদের জেরা করে ওই স্কুলে আবার অভিযান চালিয়ে রাশি রাশি টাকা উদ্ধার করল বীজপুর থানার পুলিশ। এত টাকার উৎস কী? এই প্রশ্নই এখন ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকে। আরও বেআইনিভাবে টাকা কি রাখা রয়েছে? সেটা এবার খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এখানেই শেষ নয়, এবার আরও ৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’দফায় সব মিলিয়ে ওই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১০ জুন কাঁচরাপাড়ার ওই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রথমবার হানা দিয়েছিল বীজপুর থানার পুলিশ। সেখান থেকে কোটি টাকার উপর উদ্ধার হয়েছিল। তখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল স্কুলের অ্যাকাউন্ট্যান্ট অভীক নাগ এবং জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন পালকে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জেরার পর গত ১৫ জুন ধৃত দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ওই স্কুলে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। দ্বিতীয় দফার অভিযানেই আরও ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়।

আরও এমন বিপুল পরিমাণ টাকা স্কুলের অভ্যন্তরে লুকিয়ে রাখা আছে কিনা সেটার জন্য চলছে জোরদার জেরা। প্রথম দফায় তিনটি মেশিন আনা হয়েছিল টাকা গোনার জন্য। এবার আর তা লাগেনি। এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের অভিযোগ, ‘সবটাই বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং তাঁর ভাই কাঁচরাপাড়ার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর কালো টাকা। একটা স্কুলে নয়, আমার ধারণা আরও অনেক জায়গায় নানা প্রতিষ্ঠানে যে জায়গাগুলি ওদের কাছে নিরাপদ মনে হয়েছে, সেখানে টাকা রেখে দিয়েছে। একটা স্কুলে এত নগদ টাকা থাকতে পারে না।’


তাছাড়া ২০২২ সালে চিটফান্ড মামলায় সিবিআই সুবোধ অধিকারীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। তখন অবশ্য তেমন কিছু মেলেনি। সেই ঘটনার পর তাঁদের কালো টাকা এভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের। যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে জেরা করলেই এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস সামনে আসবে বলে মনে করেন বিধায়ক। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কমল অধিকারী এবং সুবোধ অধিকারী দু’জনেই ‘নিখোঁজ’। তাহলে কি তাঁরা পালিয়ে গিয়েছে? উঠছে প্রশ্ন।