রাজ্যে পালাবদলের পর সিপিএমের বেশ কিছু নেতা বিজেপির সমালোচনা করলেও ওই পথে হাঁটলেন না সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বরং শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রশংসা করলেন এই বাম নেতা। আর তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করলেন সেলিম। যেখানে বিরোধী হিসাবে সিপিএমের রাস্তায় নেমে নানা ইস্যুতে আন্দোলন করার কথা সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে দলের মধ্যেই চাপের মুখে পড়তে পারেন সেলিম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গে বন্যা এবং ধসের পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে তৎপরতা দেখা গেল শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায়। সেখানে দু’ঘণ্টা ধরে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ-সহ উত্তরবঙ্গের নানা জেলার প্রশাসনিক আমলা ও উচ্চপদস্থ অফিসাররা। তবে এই বৈঠকের পর রাজ্যের বিজেপি সরকারের এই আগাম প্রশাসনিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। একইসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণও করেন তিনি।
অন্যদিকে সিপিএম বরাবরই বলে এসেছে বিজেপি ফ্যাসিস্ট শক্তি। বিজেপিকে বর্বর দল বলেছিলেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। সেই দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এখন ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আগের তৃণমূল সরকার যা করেনি, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সেটা করছে। উত্তরবঙ্গের বন্যা এবং ধসের পরিস্থিতি নিয়ে আগের মুখ্যমন্ত্রীর আমলে কোনও আগাম বৈঠক করা হতো না। নতুন সরকার এবার অন্তত আগে থেকে প্রস্তুতি বৈঠক করছে, এটা অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভালকে ভাল এবং সাদাকে সাদা বলার সাহস রাখা উচিত।’
তাছাড়া মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুমুল কটাক্ষ করেন সিপিএমের এই শীর্ষনেতা। মহম্মদ সেলিমের খোঁচা, ‘অভিষেককে চোখ দেখানোর জন্য বারবার বিদেশে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের চোখ দেখানো উচিত। কারণ এতদিন ধরে তিনি রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি নিজের চোখে না দেখে, শুধু অভিষেকের চোখ দিয়েই সবকিছু দেখছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে আগের তৃণমূল সরকারের যাবতীয় কাজের খতিয়ান নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করার কথা বলেছেন, সেটা অত্যন্ত ইতিবাচক। বামেরা বহুদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিল। এবার অন্তত শ্বেতপত্রটি প্রকাশ হোক এবং উপযুক্ত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বেআইনি অস্ত্র এবং কোটি কোটি কালো টাকা উদ্ধার করা হোক।’