দীপ্সিতার সভার পরই রণক্ষেত্র বালি, সিপিএমের চারটি পার্টি অফিসে চলল ভাঙচুর

CPI(M) Party Office Vandalised Photo-SNS

গতকাল রাতে হাওড়ার বালি এলাকায় সিপিএমের পর পর দলীয় কার্যালয়ে দুষ্কৃতী হামলা এবং ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোড়ন দেখা দিয়েছে। আর বুধবার সিপিএমের অভিযোগ, বালি এলাকার অন্তত চারটি পার্টি অফিসে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপির কর্মীরা। যদিও পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে নিয়ে বালি খাল ও বেলুড় চত্বরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওখানে সিপিএমের তরুণ মুখ দীপ্সিতা ধরের একটি দলীয় কর্মসূচি ছিল। তাঁর বক্তব্যের পরেই মাঝরাতে এই হামলা চলে বলে অভিযোগ। রাতের অন্ধকারে এই হামলার পিছনে বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে সিপিএম।

এই ঘটনা নিয়ে এদিন সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, ওই সভা শেষ হওয়ার পরই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। রাত ১২টা নাগাদ মোটরবাইকে করে একদল দুষ্কৃতী সেখানে এসে জড়ো হয়। তারপর পার্টি অফিসগুলিতে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। দুর্গাপুজোর সময় নানা জায়গায় সিপিএম স্টল দেয়। সেই স্টলে লেখা থাকে ‘শারদোৎসব’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কদিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন, এবার স্টলে দুর্গাপুজো না লিখলে সিপিএমকে স্টল দেওয়া হবে না। তারই পালটা দেয় সিপিএম। যা নিয়ে তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। এবার হাওড়ার বালি এলাকার একের পর এক সিপিএম পার্টি অফিসে হামলা চলল। এই ঘটনা নিয়ে তুমুল ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় সিপিএম নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শঙ্কর মৈত্র এই ঘটনা নিয়ে জানিয়েছেন, বালির পঞ্চাননতলা রোডের দেওয়ানগাজী জোনাল পার্টি অফিস এবং বেলুড় স্টেশন রোডের দলীয় কার্যালয়-সহ মোট চারটি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ২০ থেকে ২২টি মোটরবাইকে চেপে আসা ৬০ থেকে ৭০ জন দুষ্কৃতী প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এলাকাজুড়ে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। তার মধ্যে একটি পার্টি অফিসে হামলাকারীরা তালা ঝুলিয়ে দেয়। হামলাকারী সবাই এলাকার বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী। টিভি-সহ অন্যান্য আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়েছে। তছনছ করা হয়েছে চেয়ার, টেবিল। রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে সিপিএমের দলীয় পতাকা, বইপত্র এবং পুস্তিকা। প্রায় একঘণ্টা ধরে ওই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। মোট চারটি কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।


তাছাড়া সিপিএমের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে বিজেপি যুব মোর্চার নেতা রাজা গোস্বামী স্পষ্ট জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। কিন্তু সিপিএমের হাওড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শঙ্কর মৈত্র অভিযোগ করেন, ‘রাতে ২০-২২টা মোটরবাইকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এসে আমাদের চারটি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। একটি কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।’