তারাতলার গুদাম বিপর্যয়ের জেরে তৃণমূল শিবিরে আবার ভাঙন দেখা দিল। তারাতলা কাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ১৫ ছুঁতেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কলকাতার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা বিশ্বরূপ দে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি গত তৃণমূল সরকারকে দায়ী করার পরই বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা দিয়ে দলত্যাগের ঘোষণা করলেন বিশ্বরূপ। তার আগে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি কুণাল ঘোষের সভায় যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বরূপ দে। সেখান থেকে ফিরে এমনই পদক্ষেপ করলেন তিনি। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিকে কুণাল ঘোষের ‘আমরা বেইমান নই’ সভা থেকে ফিরেই দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন বিশ্বরূপ দে। কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, ‘মনটা আজ সত্যিই ভারাক্রান্ত। একটার পর একটা ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস জড়িয়ে পড়ছে তা চোখে দেখা যায় না, বিশ্বাস করাও কঠিন। তারতলায় গত প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটল তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়। আমি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেছি কলকাতা পুরসভায়। সেই দলের গাফিলতিতে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, তৎকালীন মহানাগরিক স্বাক্ষর করেছেন যে প্ল্যান তা ত্রুটিপূর্ণ এবং যার ফলে এতগুলি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারালেন। এই ব্যথা সহ্য করা যায় না।’
অন্যদিকে নিজেকে ঘাসফুল শিবির থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নিয়ে একরাশ অনুশোচনা করেছেন তিনি। বিশ্বরূপ দে’র অনুতাপ, ‘যা করেছি ভুল করেছি। তার জন্য ভবিষ্যতে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। বিধানসভায় এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলার পরই আমি তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তৃণমূল কংগ্রেস ও জোড়াফুলের সঙ্গে আর নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চাই না।’ মুখ্যমন্ত্রী ভরা বিধানসভায় বলেন, ‘ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই কলকাতা পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর এই কালী জানে না এমন কোনও বেআইনি বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন হতো ওর কথায়।’
তাছাড়া ইতিমধ্যেই লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর কলঙ্ক থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি দল ছাড়লেন কলকাতার এই প্রাক্তন কাউন্সিলর বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বিশ্বরূপের বক্তব্য, ‘দলের বিপর্যয়ের পরও আমি আনুগত্য বজায় রেখেছিলাম। কিন্তু তারপর যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটল আর তার কারণ অনুধাবিত করতে পারলাম, তখনই তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লাম।’