থেমে গেল কোচবিহার-কলকাতা উড়ান পরিষেবা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। উড়ান প্রকল্পের আওতায় চালু হওয়া কোচবিহার–কলকাতা বিমান পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল। চুক্তি অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি ছিল পরিষেবার শেষ দিন। তবে বাস্তবে তার প্রায় এক মাস আগেই কোচবিহার থেকে উড়ান বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা। জানুয়ারি মাসে মাত্র একদিন, ৮ জানুয়ারি কোচবিহার থেকে কলকাতার উদ্দেশে বিমান উড়েছিল। এরপর আর কোনও উড়ান ওঠেনি। শনিবার ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে কোচবিহার থেকে পরিষেবা প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।

এয়ারপোর্ট অথরিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ারের সঙ্গে নতুন করে কোনও চুক্তি হয়নি। সেই কারণেই এই রুটে আর বিমান চালাতে আগ্রহী নয় সংস্থাটি। যদিও চলতি বছর ১৮ মে পর্যন্ত উড়ান প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এয়ারপোর্ট অথরিটির ডিরেক্টর শুভাশিস পাল জানান, পরিষেবা চালু রাখার অনুরোধ জানিয়ে বিমান সংস্থাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি।

বারবার বিমান পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় কোচবিহারবাসীর হতাশা চরমে। রাজ আমল থেকেই কোচবিহারে বিমান পরিষেবা চালু ছিল। এক সময় দিনে তিনটি করে বিমান চলত এবং ৪২ আসনের বিমানও নামত এই বিমানবন্দরে। ১৯৯৫ সালে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১১ সালে আবার চালু হলেও তা ছিল অনিয়মিত। অবশেষে ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উড়ান প্রকল্পে ৯ আসনের বিমান পরিষেবা শুরু হয়।

নতুন কোনও বিমান সংস্থা এখনও এই রুটে আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট অথরিটির ১২ জন কর্মী রয়েছেন। পরিষেবা বন্ধ থাকলেও তাঁরা দায়িত্বে থাকবেন। এদিকে, ব্যবসায়ী মহলের আশঙ্কা, বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকলে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। কোচবিহার মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক সুরজকুমার ঘোষ অবিলম্বে পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।