নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের রাজ্য সফরের আগে কলকাতার কালীঘাট এলাকায় একাধিক বিতর্কিত হোর্ডিং ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ওই হোর্ডিংয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে কার্টুনধর্মী ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কালীঘাটের ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় টাঙানো ওই হোর্ডিংয়ে একটি কার্টুনে দেখা যাচ্ছে, সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মাটিতে পড়ে রয়েছেন এবং বাঁচার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে একটি মহিলার মুষ্টিবদ্ধ হাত তাঁকে চেপে ধরেছে। সেই হাতের উপর লেখা রয়েছে ‘বাঘিনী’ এবং পাশে লেখা ‘আমার ভুল হয়েছে, ক্ষমা করে দিন ম্যাডাম।’ ছবিতে মহিলার শাড়ির আঁচলে নীল-সাদা রঙের ছাপও স্পষ্ট। যদিও পুরো বিষয়টিই কার্টুন আকারে দেখানো হয়েছে। হোর্ডিংয়ে আদালতের বিচারপতির ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই হোর্ডিং ঘিরে তৃণমূলের দাবি, এই হাত বাংলার মায়ের হাত। বাংলার মেয়েদের হাত। যে রাজ্যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে এসআইআরের নামে, এ সেই রাজ্যেরই প্রতিবাদী হাত। হাতটি বাংলার মা ও মেয়েদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের প্রতীক। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজ্যের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে আন্দোলন করছেন, সেই লড়াইয়ের বার্তাই এই হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি এই হোর্ডিংকে ‘অশালীন’ ও ‘অমার্জনীয়’ বলে কটাক্ষ করেছে। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের দাবি, দেশের গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাঁকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে এই পোস্টারের মাধ্যমে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এমন প্রচার চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসার আগে এই হোর্ডিং লাগানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবেই। জনবহুল এলাকায় পোস্টারগুলি লাগানো হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত নজরে আসবে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হবে।