বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে। বেশি রাতে পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তকে গুলি করে খতম করা হয়। কারণ সে পুলিশের বন্দুক নিয়ে হেফাজত থেকে পালাতে গিয়েছিল। এমনকী এক রাউন্ড গুলিও চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। গণধর্ষণ কাণ্ডের পর পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে যাওয়া ধৃতদের মধ্যে থেকেই এমন ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে বুধবার সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়ে পুলিশের ‘এনকাউন্টার তত্ত্ব’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ উগরে দিলেন তিনি।
এদিকে এই এনকাউন্টার নিয়ে খুশি নির্যাতিতার পরিবার এবং মৃত অভিযুক্তের মা ও স্ত্রী। কিন্তু এমন আলগাভাবে পুলিশের কাজ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ। এই এনকাউন্টার নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরীর ক্ষোভ, ‘পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং সক্ষমতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে। কারণ অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর বন্দুক কেড়ে নিয়ে গুলি চালিয়েছিল। এটা ভাবতে আমার অবাক লাগছে। যে লোকটা খালি হাতে গ্রামের মানুষকে নাবালিকার দেহ খুঁজতে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিয়েছে!’
অন্যদিকে বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দার ও কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রভাস মণ্ডলের। একদিন আগেই নবান্ন থেকে বারুইপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই সাক্ষাতের ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ঘটল মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার। সেখানে অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ‘আরও অবাক লাগছে একজন চুল্লুখোর, মাদকখোর ভ্যানওয়ালা শুধু পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিল তাই নয়, এক রাউন্ড গুলিও চালিয়ে দিল। আমাদের পুলিশের তাহলে কী হাল!’
তাছাড়া রবিবার বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। তারপর ৬ সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোনে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। তার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় তিন অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দারকে। মঙ্গলবার নিজে বারুইপুর যান শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। আশ্বাস দেন সুবিচার মিলবেই। ঠিক তার ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এনকাউন্টারে শেষ করে দেওয়া হয় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে। গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে দুষে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘আজ এই অবস্থা হলে কাল যদি জয়েশ-ই-মহম্মদ বা লস্কর-ই-তৈবার মতো বড় কোনও জঙ্গি সংগঠন এই রাজ্যে আসে, তাহলে এই পুলিশ কী করবে? তারা কীভাবে মোকাবিলা করবে? আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলব আগে রাজ্য পুলিশকে আরও শক্তপোক্ত করতে নজর দিন। গত ১৫ বছরে পুলিশের মাজা ভেঙে গিয়েছে। পুলিশ আগে মাজা সোজা করুক। সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের ওপর যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে সেটা দূর করে আস্থা ফেরানোর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’