উর্দি পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবিতে বিতর্ক, কালীঘাট থানার ওসিকে সাসপেন্ড কমিশনের

কালীঘাট থানার ওসির হোয়াটসঅ্যাপে করা একটি পোস্টকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আর এই বিতর্কের জেরেই কালীঘাট থানার ওসিকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ওসির তরফে পোস্ট করা ওই ছবি ও ক্যাপশন আপত্তিকর এবং তা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।
তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ জানিয়ে ছবিটি পোস্ট করেছেন। তাঁর তরফে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এবিষয়ে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছিল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কমিশনের তরফে ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কালীঘাটের নতুন ওসির পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে।

জয়প্রকাশ মজুমদারের অভিযোগ ছিল, কালীঘাট থানার বর্তমান ওসি গৌতম দাস নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবিতে তাঁকে পুলিশ ইউনিফর্ম পরে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থানার চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে লেখা ছিল—’নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত।’ যদিও পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে জয়প্রকাশ সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার, মনোজ আগারওয়াল এবং অজয় নন্দ-এর কাছে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের পোস্ট শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং আইনবিরুদ্ধও হতে পারে। তাঁর দাবি, পুলিশের ইউনিফর্ম পরে অস্ত্র হাতে ছবি তুলে তা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা নিয়মবিরুদ্ধ এবং তা জনসাধারণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। তৃণমূল নেতার বক্তব্য, এই ধরনের ছবি ও ক্যাপশন থেকে বোঝা যায় যেন কাউকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ওসির হাতে থাকা ওই ধরনের অস্ত্র আদৌ তাঁর জন্য অনুমোদিত কি না এবং তিনি সেই অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত কি না।

জয়প্রকাশ মজুমদার মনে করেন, এই পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, আইন ভঙ্গের মতো এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এরপরে ঘটনায় কমিশনের তরফে রিপোর্ট তলব করা হয়। তারপরেই লালবাজারের তরফে গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কালীঘাট থানার ওসি পদে বদল আনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।