মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে ভোটারদের জন্য নয়া নির্দেশিকা কমিশনের

এসআইআর শুনানি ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনা ও প্রতিবাদের ছবি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে আচমকা একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘোষণার পর বিজেপি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। একই সঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যেই শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারদের জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে কমিশন।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূলত নো ম্যাপিং কিংবা এনুমারেশন ফর্মে তথ্যগত অসংগতি থাকলেই ভোটারদের এসআইআর শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এই শুনানিতে বহু ক্ষেত্রে ভোটাররা নথি হিসেবে কেবল মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডই জমা দিয়েছেন। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই সমস্ত ভোটারকে আবার বৈধ নথিপত্র জমা দিতে হবে। সশরীরে এসআইআর কেন্দ্রে গিয়ে নথি দেওয়া যেতে পারে, আবার সংশ্লিষ্ট বিএলও-র সঙ্গে আগে কথা বলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজ পাঠানো যাবে। জমা পড়া নথি যাচাইয়ের পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরেই এই নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে, কারণ ওই বছরই শেষবার এমন প্রক্রিয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ দেশের মোট বারোটি রাজ্যে একই উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকা ভোটাররা শুনানিতে হাজির হয়ে উপযুক্ত নথি জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় থাকা যে কোনও ভুল বা অসংগতি সংশোধনের ক্ষেত্রেও নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।


কমিশন আগে থেকেই ভোটার তালিকার জন্য ১৩টি নির্দিষ্ট নথির কথা জানিয়েছিল, যেখানে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের উল্লেখ ছিল না। তবুও বিভিন্ন স্তরে এই নথিকে গ্রহণযোগ্য করার দাবি উঠেছিল এবং বাস্তবে অনেক বিএলও তা গ্রহণও করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড আর নথি হিসেবে গণ্য হবে না। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যজুড়ে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।