লন্ডনে কেনাকাটা প্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য জায়গা হলো অক্সফোর্ড স্ট্রিট। থিসলের মার্বেল আর্চ থেকে মাত্র কয়েক পা দূরে অবস্থিত এই বিখ্যাত এলাকায় রয়েছে বিশ্বের সেরা কিছু কেনাকাটার জায়গা। বিলাসবহুল ফ্যাশন, সাধারণ দোকানের জিনিসপত্র, অথবা আশেপাশের এলাকার কোনও লুকানো রত্ন—সবকিছুই যাঁরা শপিং করতে যান তাঁদের দুয়ারে। লন্ডনের এই অক্সফোর্ড স্ট্রিট এখন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বাংলায়। কারণ ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া কলেজ স্ট্রিটের এবার ভোলবদল করতে চলেছে বিজেপি সরকার। এবার আন্তর্জাতিক রূপরেখায় এই বদল করা হবে। এখানে আর যানজট এবং হর্নের শব্দ আউট হয়ে যাবে। সেখানে ইন হবে লন্ডনের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং ‘নো ভেহিকল জোন’। এভাবেই গড়ে তোলা হবে এই এলাকাকে বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
এদিকে লন্ডনের ওই রা্স্তার একটা ইতিহাস আছে। প্রায় ১৭২৯ সাল নাগাদ রাস্তাটি অক্সফোর্ড স্ট্রিট নামে পরিচিতি লাভ করে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে আর্ল অফ অক্সফোর্ড আশেপাশের অনেক জমি কিনে নেন। তারপর এই এলাকার উন্নয়ন শুরু হয়। অক্সফোর্ড স্ট্রিটের মতো মধ্য লন্ডনের প্রাণচাঞ্চল্য জায়গা খুব কম আছে। এবার কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া সেভাবেই সেজে উঠবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। বইয়ের দোকানগুলিকেও নতুন থিমে সাজানো হবে। আসানসোলের জেলা গ্রন্থাগারে এসে এই অত্যন্ত অভিনব এবং মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
অন্যদিকে আগামী প্রজন্মকে মোবাইল এবং ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে আবার বইমুখী করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অগ্নিমিত্রা। এই কাজ করার ক্ষেত্রে একটা রূপরেখা করা হয়েছে। মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের একটি নির্দিষ্ট অংশে সাধারণ কোনও গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। তবে সাইকেল স্ট্যান্ড থাকবে। পরিবেশবান্ধব সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধার্থে থাকবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি থাকবে। আর ঐতিহ্যকে বজায় রাখতে সেখানে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্রাম চালানো হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, অবসরসন্ধানী বা ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, যেই হোন না কেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিটের এক মাইল দীর্ঘ দোকানপাট সবাইকে অবাক করে।
আর সেভাবেই গড়ে উঠবে কলেজ স্ট্রিটের নস্টালজিক বইপাড়া। তাই এখানে বসবে পুরনো দিনের ভিন্টেজ ল্যাম্পপোস্ট। বসার বেঞ্চ ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা। যাতে তরুণ প্রজন্ম শান্ত মনে বসে বই পড়তে পারে। আর হেডফোন নিয়ে গান শুনতে পারে। এই বিষয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘এখনকার প্রজন্ম মোবাইল স্ক্রিনে আটকে গিয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এই আধুনিক ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে আবার লাইব্রেরি এবং বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের আসল লক্ষ্য। তাই হেরিটেজ রেলিংগুলিকেও সংস্কার করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।’