পাহাড়ে তিনি কাজ করতে আসবেন। ঘুরতে আসবেন না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পাহাড়ে পা রেখে এই কথা বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার আবার কাজের স্বার্থেই পাহাড়ে পাড়ি দিতে চলেছেন তিনি। দুর্গাপুজোর আগেই পাহাড় সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোয় যাতে পাহাড়ের মানুষজন সুখে থাকে এবং উৎসবে আনন্দ করতে পারেন সে বিষয়টিও দেখবেন তিনি। তবে এবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি তাঁকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাই সেই আমন্ত্রণও রক্ষা করবেন তিনি। সুতরাং একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়েই পাহাড় সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর।
এদিকে আগামী ৭ অক্টোবর দার্জিলিংয়ের লেবংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান আছে। সেখানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন পাহাড়ের দুই নেতা। আর তাতে সাড়া দিয়েছেন তিনি। সুতরাং দুর্গাপুজোর আগে আবার একবার পাহাড় সফরে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। আগামী ৬ তারিখ রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন সেরে পাহাড় সফরে যাবেন তিনি বলে জানা গিয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল কোচবিহারে প্রশাসনিক সভা সেরে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় মূর্তি নদীর উপর নবনির্মিত সেতুর উদ্বোধন করতে যান মুখ্যমন্ত্রী। হেলিকপ্টারে চালসার টিয়াবনের হেলিপ্যাডে নামেন তিনি। সেখানেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বিমল গুরুং এবং রোশন গিরি। তখন তাঁদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় শুভেন্দু অধিকারীর। আর কথাবার্তা চলাকালীন আমন্ত্রণ করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই কথাবার্তা হওয়ার সূত্র ধরেই জানা যায়, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিমল এবং রোশনদের সঙ্গে কথা বলে সন্ধ্যায় কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। আমার ইচ্ছা সেখানে থাকার।’
তাছাড়া গত জুলাই মাসের শেষে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বৈঠক করেছিলেন। সেখানে ৭ অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে মৌখিকভাবে আমন্ত্রণ করেছিলেন মোর্চা নেতৃত্ব। মঙ্গলবার চালসার টিয়াবনে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে কার্ড তুলে দেন তাঁরা। এই বিষয়ে বিমল গুরুং অবশ্য জানান, তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওইদিন পাহাড় সফরে আসবেন। দার্জিলিংয়ের পবিত্র ভূমিতে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে।