বালুরঘাট সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন শুভেন্দু অধিকারী

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার উন্নয়নে একের পর এক বড় প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। কিন্তু সেটা কতদূর এগিয়েছে? প্রশ্ন উঠছে। কারণ সেখানে মেডিক্যাল কলেজ, বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এবার সেই সমস্ত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। হেলিকপ্টারে করে বালুরঘাট বিমানবন্দরে নেমে রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই তারিখে সিলমোহর দেওয়া হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে নিয়ে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই জেলায় আসার কথা আছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত তারিখের নির্দেশিকা আসেনি। বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী এই জেলায় আসবেন। তিনি জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। চলতি মাসের শেষের দিকে তাঁর আসার কথা থাকলেও সফরের দিন কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমদিকে মুখ্যমন্ত্রী জেলায় আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তিনি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আসবেন। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।’

অন্যদিকে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজো দিয়ে বৈঠক করবেন প্রশাসনিক স্তরে। বীরভূমের এই সফর শেষ করে ফিরবেন কলকাতায়। তারপর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের সফরে যাবেন বলে জানা যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের স্থান চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছেন। এই জেলার একাধিক দপ্তর তাদের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট তৈরি করতে শুরু করেছে। এখানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে মেডিকেল কলেজ স্থাপন। ইতিমধ্যেই মেডিকেল কলেজ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। তার ডিপিআর তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে এই প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


তাছাড়া বালুরঘাট বিমানবন্দর নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার একটি মউ স্বাক্ষরের কথা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি ঠিক করা ও নতুন বিষয় চালু করা নিয়েও বেশ কিছু জটিলতা আছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে। রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প জেলায় কেমন হারে কার্যকর হয়েছে তার অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা হতে পারে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরেও সীমান্ত এলাকা পড়ে। বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছিল কাঁটাতার বসিয়ে সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করার জন্য। তা নিয়েও আলোচনা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।