বর্ধমান পুলিশ লাইনে প্রশাসনিক সভা থেকে একদিকে কৃষকদের জন্য কল্পতরু হয়ে উঠলেন, অপরদিকে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষ কৃষককে বিদ্যুতের বিলে বিশেষ ছাড় দেওয়া এবং ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন তিনি। আর এই মঞ্চ থেকেই শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান থেকে অভিষেককেই নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এখানের জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, গোটা রাজ্যের প্রতিটি ব্লকের কৃষকরা কৃষিকাজে পাম্পসেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিলে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে সরকারি ভর্তুকি পাবেন। কোনও কৃষক যদি কৃষিক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিয়ে থাকেন, তবে পরবর্তী কোয়ার্টার থেকে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা ভর্তুকি পেয়ে বছরে তাঁদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই সুফল পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৪ লক্ষের বেশি কৃষকদের বিদ্যুৎ ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি মিলবে। কৃষকদের জন্য বছরে ২৫-৩০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিলে ছাড়। তার জন্য সরকারের বাড়তি ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে।’ আবার এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর হুঙ্কার, ‘বালির টাকা সরাসরি যেত ক্যামাক স্ট্রিটে। সব বন্ধ করে দিয়েছি। সব চোরেদের জেলে যেতে হবে।’
বালির টাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট দুটিই যুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কারণ ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর অফিস। আর বালি চুরির টাকা যেত তাঁর কাছে এই অভিযোগ বারবার তুলেছিলেন বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। যদি সেসবের কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। এদিন পূর্ব বর্ধমান পৌঁছে প্রথমে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর পুলিশ লাইন মাঠে সভা করেন। সেখান থেকেই বালি পাচার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের আগে বালি জমিয়েছিল। ভেবেছিল পরে ব্যবসা হবে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই সব বন্ধ করে দিয়েছি। বালি পাচারের টাকা সরাসরি যেত ক্যামাক স্ট্রিটে।’
তাছাড়া বিদ্যুৎ ভর্তুকির সুবিধা ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। আর ৪ লক্ষ কৃষকের সুবিধার্থে সরকারের অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘কৃষকদের স্বার্থে ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে ২৭০০ টাকা করা হবে। আগের সরকার যেখানে কৃষকদের বছরে ৬,০০০ টাকা দিত, সেখানে এখনকরা সরকার সেটা বাড়িয়ে ৯,০০০ টাকা করে দেবে। অক্টোবর মাস থেকে বালি খাদান চালু হলেই রেট কমে যাবে। পশু হাট চালু করেছি। পশু হাটে গোমাতার উপর অত্যাচার করতে দেব না। দুগ্ধপালকদের গরু কেনাবেচায় ছাড় দিয়েছি। মাদক কারবারীদের ২০ বছর জেল খাটাবো। পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজো করতে দেব না। অষ্টমীর দিন কোনও মদের দোকানে খোলা যাবে না। ডিজে সংস্কৃতি থেকে বাংলাকে বের করতেই হবে।’