‘কালীঘাট-নতুন তৃণমূল ভোটে দাঁড়ানোর লোক পাবে না’, মেচেদায় খোঁচা শুভেন্দুর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এক, কালীঘাট তৃণমূল। দুই, ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূল। কালীঘাট তৃণমূল ক্রমশ রোগা হচ্ছে এবং ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এই দুই তৃণমূলই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লোক দিতে পারবে না। মেচেদা থেকে এমনই খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় জেলার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি। সেখান থেকেই হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দু’মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হতে চলেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তিনি।

এদিকে এই উপনির্বাচনে দুই তৃণমূলের এমনই হাল হবে বলে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবারের নির্বাচনে দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছিলেন তিনি। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে জয়ী হন তিনি। পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। তাই এখানে উপনির্বাচন হবে। এখানের উপনির্বাচনের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম নিয়ে কিছু বলছি না। বলছি, স্থানীয় স্তরে ভোট হলে কী কালীঘাট তৃণমূল, কী নতুন তৃণমূল, কেউ ভোটে দাঁড় করানোর লোক পাবে না। ওরা আগে প্রার্থী দিতে পারুক, তারপর বলব।’

অন্যদিকে সাংগঠনিক বৈঠক থেকে জেলা স্তরের নেতা এবং পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের জনসংযোগ বাড়াতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের কাজ করার পাশাপাশি বুথ স্তরের সংগঠনকে আরও মজবুত করার বার্তা দেওয়ার সময়ই উঠে আসে নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ। আগামী দিনে এই কেন্দ্রে যে বড় রাজনৈতিক লড়াই আসন্ন সেটা মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে বিজেপি প্রার্থী কে সেটা এখনই জনসমক্ষে আনতে চাননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘দুটো জিনিসের উপর ভর করে তো তৃণমূল ছিল। এক হলো পুলিশ আর দুই আইপ্যাক। এখন তো পুলিশ নেই। সরকার বদল হয়ে গিয়েছে। আর আইপ্যাক তো ভোটের আগেই পাট গুটিয়ে চলে গিয়েছে। এখন রাজ্যে তোলাবাজি বন্ধ হয়েছে, সিন্ডিকেট বন্ধ হয়েছে, রাস্তায় হাত পাতা বন্ধ হয়েছে। রাজ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। আর একটু ধৈর্য ধরুন।’


তাছাড়া এই  বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা, বিধায়ক অশোক দিন্দা, বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, সিন্টু সেনাপতি, নির্মল খাঁড়া, সুভাষচন্দ্র পাঁজা এবং প্রদীপ বিজলী-সহ জেলার জনপ্রতিনিধিরা। সেখানেই শুভেন্দুর তোপ, ‘রাজ্যে এখন সিন্ডিকেট রাজ খতম হয়েছে। জেলাজুড়ে আমাদের পক্ষে ৫৬ শতাংশ ভোট আছে। আগামী দিনে পূর্ব মেদিনীপুরে যে কোনও নির্বাচন হলেই এই ভোট শতাংশ এক লাফে ৭০ গিয়ে পৌঁছবে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যাবে যে, বিরোধীরা লড়াই করার জন্য প্রার্থী দেওয়ার লোক পর্যন্ত খুঁজে পাবে না।’