একবার নন্দীগ্রাম, আর একবার ভবানীপুর। পাঁচ বছর অন্তর রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখন আত্মবিশ্বাসী। যদিও এই দুই বিধানসভার ফলাফল নিয়ে বিতর্ক আছে। এই আবহে আবারও যে কোনও সময় যে কোনও আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করলে তাঁকে হারিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বারুইপুরের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ডায়মন্ডহারবার নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী তাঁর অভিযোগ, সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলের ‘সেটিং’ তত্ত্ব। আবার নাম না করে বড় চোর জেলে যাবে বলে হুঙ্কার ছাড়েন তিনি।
এদিকে একদিন আগেই চোরবাগানের মৃত্যুমিছিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো থেকে শুরু করে বিজেপি বিধায়ক এবং নেতার নামে তোপ দেগেছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে সরাসরি তুলোধনা করেছিলেন। এবার তারই জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘বড় চোর জেলে যাবেই, চিন্তা করবেন না। ধৈর্য রাখুন। আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে বড় চোর কবে যাবে? বড় চোর যাবে। আমার রাজনীতিতে সহ্য, ধৈর্য ধরি। বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন।’ শুক্রবার বারুইপুরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা বললেন তার অর্থ দাঁড়ায়, এমএ বেবি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে মমতা ঘনিষ্ঠ একের পর এক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সদ্য সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ইন্দ্রনীল সেন এবং অজিত মাহাতোর নাম। দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এদিন বারুইপুরের সভা থেকে মমতা-অভিষেককে খোঁচা দিতে গিয়ে নাম না উল্লেখ করেই সভায় উপস্থিত বাকিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। সাহস থাকলে আপনি লড়ুন। আবার হারাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ওঁরা কলকাতায় না থেকে দিল্লি যাচ্ছেন। আপনি দিল্লি যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হবে না। সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাংলাকে বাঁচানোর লক্ষ্যে একসময় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়েছিল। সেটা জানতেন অটলজিও। সেই তৃণমূলই এখন সিপিএমের সঙ্গে দোস্তি করছে। বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। আসলে বাংলায় কোথাও আপনার জায়গা নেই। আপনি ওই দিল্লিতে রামলীলা ময়দানেই যান।’
তাছাড়া অভিষেক গতকালই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কাঠগড়ায় তুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে। ওই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সুর চড়িয়ে বলেন, ‘হেরেই পঞ্চাত্ব প্রাপ্তি হয়েছে একটা দলের। এঁচোড়ে পাকা ভাইপো দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করেছে। জেলার নানা এলাকায় বিরোধীদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাংসদ কোথায়? আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোরটা কবে যাবে। সময়টা একটু দেখে সব ঠিকঠাক করে করতে হয়। বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই। গোটা জেলায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছ। ২০১৪ সালের পর থেকে একটাও ভোট করতে দাওনি। ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন উনি। কিন্তু ৬ মাস কোথায়?’