‘তিরিশ আসনেই একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাতে হবে খালি হাতে’, বার্তা শুভেন্দুর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

এক লক্ষের বেশি ভোটে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। প্রচারে বেরিয়ে তাঁকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য আবেদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় গেরুয়া ঝড় উঠেছে নন্দীগ্রামে। এবার আবার একটি নির্বাচন আছে। কালীপুজোর পরই সম্ভবত হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন। এই হলদিয়া পুরসভার নির্বাচনে যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কোনও ভোট না পায়, একদম যাতে শূন্য হয়ে যায় সেই আবেদন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তমলুক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে হুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেন যে, হলদিয়া পুরসভার সমস্ত আসনেই জয় ছিনিয়ে নিতে হবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে একেবারে বাটি হাতে ফেরত পাঠাতে হবে। এখানেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আগামী দিনে হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন আছে। আমি দু’একদিনের মধ্যে বসব। পুরো জেলার কর্মীরা একদম ঝাঁপিয়ে পড়বেন পুরো শূন্য করে দিতে হবে। কোনও ঢিলেমি দেওয়া আর যাবে না। যেভাবেই হোক বিজেপিকে জেতাতে হবে। তিরিশটি আসনেই একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাতে হবে খালি হাতে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে আমাদের। তাই আগামী দিনে যাতে আর কোনও ধরনের ক্ষতি করার সুযোগ না পান, সেই বন্দোবস্ত আপনাদেরই করতে হবে।’

অন্যদিকে তমলুকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী ডঃ হরেকৃষ্ণ বেরা। তিনি প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৬৬ ভোট পেয়েছেন। তৃণমূলের দীপেন্দ্র নারায়ণ রায়কে পরাজিত করে জয়ী হন তিনি। এই তমলুক সংসদীয় কেন্দ্রও বিজেপির। সেখানে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ৭,৬৫,৫৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এবার সেখানে যাতে অন্য দল দাগ না কাটতে পারে সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। যাতে দিমাগী নকশাল, টুকরো টুকরো গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি এবং আরশোলা-ছারপোকারা কোনওভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে বংশবিস্তার করতে না পারে।’


তাছাড়া উত্তর কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীনের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী। বারবার স্মরণ করে গভীর শোকপ্রকাশ করছেন তিনি। এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘চোরবাগানের এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় ১৯ জন সহনাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। আমরা ওই ২৫ জন আহত মানুষকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনার সমস্ত ব্যবস্থা করেছি। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়েছি এবং তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছি।’