পশ্চিমবঙ্গকে ঢেলে সাজাতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকে কাজ করা শুরু করেছেন তিনি। একের পর এক রেলের প্রকল্প, অন্নপূর্ণা যোজনা, মা আহার থেকে শুরু করে ক্যানসার চিকিৎসার ভ্যাকসিন-সহ একাধিক কাজ করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াতেরও ব্যবস্থা করেছেন। এবার কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়ালের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শহরে এবার ওয়াটার মেট্রো করা হবে। আর তাতে রাজ্যের মানুষ ব্যাপক উপকৃত হবেন।
আজ, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়ালের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দাদনপাত্রবারে বন্দর থেকে শুরু করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট মিউজিয়াম গড়ার ভাবনা, পরিবহন ও শিপিং বিভাগকে আলাদা করার ভাবনা এবং কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো গড়ে তোলার মতো বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। সুতরাং কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন করতে চলেছে সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
কলকাতা ওয়াটার মেট্রোতে এবার যুক্ত হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত দেশে ১৭টি জায়গায় ওয়াটার মেট্রো রয়েছে। এবার সেখানে ১৮তম রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত হচ্ছে। কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো প্রযুক্তি আসছে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কলকাতা এবার যুক্ত হবে ওয়াটার মেট্রোয়। আগে কেরলম-সহ দেশের ১৭টি জায়গায় এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। দেশের ১৮তম শহর হিসেবে কলকাতা যুক্ত হবে ওয়াটার মেট্রো চেইনে। আগের রাজ্য সরকার কোনও প্রকল্পেই যুক্ত হয়নি। তার খেসারত রাজ্যবাসীকে দিতে হচ্ছে। এবার সাগরমালা-২ প্রকল্পেও যুক্ত হবে রাজ্যের সরকার। ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি হবে। জাতীয় জলপথে আরও ২৫টি জেটি তৈরি হবে।’
রাজ্যে জল পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তকে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। আর বৈঠক শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘প্রথমে কেরলমের কোচিতে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা এনেছিল। সেটা সফল হয়েছিল। তারপরে কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পনা করেছিল ভারতের ১৮টি শহরে এই পরিষেবা নিয়ে আসবে। তার মধ্যে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, পাটনা, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজে প্রথম দফায় ওয়াটার মেট্রো চালু হওয়ার কথা। তালিকায় রয়েছে তেজপুর, ডিব্রুগড়। সাগরমেলা ২-এর অধীনে রাজ্যে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প হবে। বাগবাজার, আহিরীটোলা, শোভাবাজার, মল্লিকঘাট, রামকৃষ্ণঘাট, বাঁধা ঘাটের সৌন্দর্যায়ন এবং মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কপিলমুনির আশ্রমের সংলগ্ন সৈকতের পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হবে।’