রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। সরকারি কর্মচারীদের সম্মান থাকবে। মানুষের কাজে গতি আসবে। এই কথাগুলি বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতায় আসার পর এই কথাগুলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন তিনি। কড়া অনুশাসনের মধ্যে দিয়ে চলছে রাজ্য। সরকারি কর্মচারীদের সম্মান বেড়েছে। ডিএ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমনকী পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এবার প্রশাসনকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হবে না বলে স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিলেন তিনি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘ভয়, চাপ অথবা অন্য কোনও কারণে নীচুতলার একাংশের অফিসাররা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে প্রশাসনকে বের করে আনতেই হবে। আপনাদের রাজনীতির কাজে ব্যবহার করব না। নির্বাচনে রাজনৈতিক কর্মী বানাব না। বরং পেশাগত মর্যাদা এবং জ্যেষ্ঠতার বিচারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগের সরকারের সময় প্রশাসনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। এখন নতুন করে তা গড়ে তোলার সময় এসেছে।’
অন্যদিকে বহুদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন অফিসাররা বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। এই পরিস্থিতি বদলানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিবেশ বদলানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি সুব্রত গুপ্তকে আবার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরিয়ে এনেছি। একসময় রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়ার পরও তাঁকে দিল্লিতে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ফিরিয়ে এনেছি। কোনও সরকারি কর্মীকে প্রকাশ্যে অসম্মান করিনি। প্রশাসনের সঙ্গে সুস্থ এবং পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের দায়িত্ব।’
তাছাড়া আগে আইপিএস এবং আইএএস অফিসারদের মঞ্চে বসিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপমান করা হতো বলেও আগের সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘এ পক্ষ ও পক্ষ নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। যে কাজ করবে, আমার কাছে সেই-ই সেরা। কেন্দ্রের সঙ্গে অযথা সংঘাতে না গিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে জোর দেওয়া হবে। আগের সরকার যদি পাথর খাদান থেকে ৭০ কোটি টাকা আয় করে থাকে, আমরা খুব অল্প সময়েই সেখানে ১২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি। আমি অনেকটাই জানি, কিন্তু সবটা জানি না। আপনারা বলবেন, আমি শুনব।’