তিনি কমিটেড। তিনি দায়িত্ববান। কোনও পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যান না। সামনে থেকে সবকিছুর মোকাবিলা করেন। আবার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যও করেন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। তাই সবকিছুতেই নেন জিরো টলারেন্স নীতি। চোরবাগানের ঘটনার ক্ষেত্রেও সেটার ব্যতিক্রম হল না। দুর্গাপুজোর মধ্যে চোরবাগান বিপর্যয়ে একাধিক পরিবারের আনন্দ মিলিয়ে গিয়েছে বিষাদে। এই ক্ষতি তাঁদের জীবন থেকে মোছা যাবে না সারাজীবন। কিন্তু প্রশাসনে থেকে স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে চোরবাগান বিপর্যয়ে মৃত সন্দীপ বেজ এবং টগর বেজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে চোরবাগান সার্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। কলকাতা এবং দূরদূরান্তের জেলা থেকে শহরের এই বিখ্যাত দুর্গাপুজো দেখতে এসে আর বাড়ি ফেরেননি তাঁরা। এই পরিবারগুলিতে উৎসবের আলো নিভে গিয়েছে। এখন থমথমে অবস্থায় স্বজন হারানোর বেদনা সামলাতে চোখের জলকেই ভরসা করেছেন তাঁরা। তবে তাঁদের পাশে এবার অভিভাবকের মতো দাঁড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার, নবমীর দিন জেলায় জেলায় গিয়ে প্রত্যেক পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিপর্যয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিলেন আর্থিক সাহায্য। আর সকলের সামনে বললেন, ‘প্রশাসনিক প্রধানের কর্তব্য পালন করেছি। আমি ওঁদের ফিরিয়ে দিতে পারব না, কিন্তু পরের দায়িত্বটা তো পালন করতে হবে? কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির অধীনে তদন্ত কমিটি গড়ে দ্রুত তদন্ত শুরু ও শেষ হবে।’
অন্যদিকে চোরবাগানের এই ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটল কীভাবে সেটার তদন্তের স্বার্থে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটির জন্য কলকাতা হাইকোর্টে চিঠি পাঠানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এদিন তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশও দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যসচিব সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে তদন্ত কমিটির কথা জানিয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে তাড়াতাড়ি যাতে প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তদন্তভার যে কমিটির হাতে থাকবে, সেখানে কলকাতা পুলিশ এবং পুরসভাকে রাখা হয়নি।’
তাছাড়া চোরবাগানের মৃতদের শনাক্তকরণে দেখা যায়, তালিকায় বেশিরভাগ জেলার বাসিন্দা। বর্ধমানের মাধবডিহি থেকে অষ্টম শ্রেণির ছেলে সন্দীপকে নিয়ে চোরবাগানের ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন মা টগর বেজ। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। দুর্ঘটনার পর থেকে সব পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঠিক করেছিলেন, হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজেই যাবেন তাঁদের বাড়ি। তাই করলেন তিনি। আর দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘যে কোনও ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিয়েই এগোতে হয়। দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যে পরিবারগুলির চোখে জল। আমরা প্রশাসনের অংশ হিসেবে মনে করি ওঁরা আমাদের আত্মীয়। ওঁদের পাশে দাঁড়ানোটা অগ্রাধিকার।’