রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তারপর প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে ঠাকুরবাড়িতেই মধ্যাহ্নভোজ সারেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁর আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখেননি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী তথা বাগদার বিজেপি বিধায়িকা সোমা ঠাকুর। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নিজের হাতেই পঞ্চব্যঞ্জন রান্না করেন তিনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মেনুতে কী কী রাখা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে কৌতূহলী সকলেই। তার আগে ঠাকুরবাড়িতে আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে ঠাকুরবাড়ির মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘণ্টা বাজিয়ে প্রদীপ দিয়ে আরতিও করেন। সঙ্গে ছিলেন শান্তনু ঠাকুর।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে রাখা হয় বাঙালি ঘরানার এলাহি আয়োজন। ইলিশ ভাজা ও ভাপা, পমফ্রেট ভাজা, চিংড়ি দিয়ে মোচার ঘণ্ট, খাসির মাংস, দেশি মুরগির মাংস থেকে শুরু করে চিংড়ি পিঠে, ভেজ ডাল, বেগুন ভাজা, মিষ্টি, দই এবং ছানার পায়েস। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশেষ বাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করেন বিধায়ক সোমা। মাছ, মাংস, মিষ্টি, দই সব থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মজলেন ঠাকুরবাড়ির ‘স্পেশ্যাল মেনু’ চিংড়ি পিঠেতে বলেই খবর। মুখ্যমন্ত্রী খেতে ভালবাসেন। খাওয়াতেও ভালবাসেন। সকাল থেকেই রান্নাঘরে একের পর এক পদ তৈরি হয়। শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী জানিয়েছেন, সব নিজের হাতে রান্না করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রয়েছে ঠাকুরবাড়ি স্পেশ্যাল চিংড়ি পিঠেও।
অন্যদিকে দুপুরে মুখ্যমন্ত্রীর পাতের সামনে সাজিয়ে দেওয়া হয়-মৌরলা মাছ, ইলিশ ভাজা ও ভাপা, পমফ্রেট ভাজা, চিংড়ি-মোচার ঘণ্ট, চিংড়ির মালাইকারি, খাসির মাংস এবং দেশি মুরগির মাংস। পাশাপাশি ছিল সবজি ডাল, বেগুন ভাজা, উচ্ছে ভাজা, মিষ্টি, দই এবং ছানার পায়েস। আর ছিল চিংড়ি পিঠে। এই বিষয়ে বিধায়িকা সোমা বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছিলাম ঠাকুরবাড়ির স্পেশ্যাল রান্না চিংড়ি পিঠে। আমি ভাবতে পারিনি, উনি ওটাই বেশি করে নিয়েছেন। ওই খাবার খেয়ে আপ্লুত।’
তাছাড়া বিকেলে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু অধিকারী। ঠাকুরমন্দিরে তিন গোঁসাই ঠাকুরকে বরণ করার পর মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী কোনওদিন মতুয়াদের কথা ভাবেনি। নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ভাবেননি। মতুয়াদের আশীর্বাদেই আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। এখানে সেবা কার্য করতে এসেছি।’ নিজের হাতে রান্না করার বিষয়ে সোমা ঠাকুর জানান, তিনি রান্না করতে অত্যন্ত ভালবাসেন। তবে সোমার কথায়, ‘ভাল লাগল যে, আমি যে মৌরলা মাছের রেসিপিটা করেছিলাম সেটা খেয়েছেন। ইলিশ মাছ ভাজা খেয়েছেন। ভেজ ডাল, উচ্ছে ভাজা, বেগুন ভাজাও খেয়েছেন। সব পদই চেখে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কীভাবে চিংড়ি পিঠে বানিয়েছি, সেটা আমার থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনেছেন।’ আর মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন খেয়ে? মুখ্যমন্ত্রী খুশি হয়ে বললেন, ‘সোমা ঠাকুর নিজে হাতে রান্না করেছেন। এটা পরম প্রাপ্তি।’