মুখ্যমন্ত্রীর হাতযশে হ্যারিকেন আউট বিদ্যুৎ ইন, স্বাধীনতার পর প্রথম আলো দেখল ধূপগুড়ির গ্রাম

Dhupguri Village Electricity Photo-SNS

স্বাধীনতার পর কেটে গিয়েছে একের পর এক বছর। ৭৯ বছর ধরে জীবন কেটেছে অন্ধকারে। সম্বল বলতে ওই গ্রামের মানুষজনের কাছে ছিল হ্যারিকেন। সেই আলোতেই চলত রাতের জীবনযাপন। বিদ্যুতের আলোয় যে আনন্দ অথবা সুবিধা তা থেকে তাঁরা বঞ্চিত ছিলেন। হ্যারিকেন জ্বালিয়ে খাওয়া থেকে পড়াশোনা সবই চলত। এমন অবস্থায় ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসও আসতে চলেছিল। কিন্তু অবশেষে বিদ্যুতের আলো পৌঁছল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির মাগুরমারি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধানপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারে। আর বাড়িতে প্রথমবার বিদ্যুৎ আসায় খুশিতে মাতলেন ওই পরিবারের লোকজন।

বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই ঘরে বিদ্যুতের আলো এসে পৌঁছল ছয় পরিবারের কাছে। আর তাঁদের জীবনে এখন যেন অকাল দীপাবলি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ৭৯ বছর পূর্ণ হতে চলেছে আর একসপ্তাহের মাথায়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেশ এগিয়ে চলেছে। প্রযুক্তি থেকে উন্নয়নের জোয়ারে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা। কিন্তু এখনও এমন বহু পরিবার আছে, যাদের কাছে বিদ্যুৎ ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নই এবার অবশেষে পূরণ হলো উত্তরবঙ্গের জনপথ জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে। প্রথমবার ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলতেই অকাল দীপাবলিতে ভেসে উঠল ৬টি পরিবার। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড় মাগুরমারি এলাকায় ৬টি পরিবারের ঘরে এদিন সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো জ্বলল বিদ্যুতের আলো।

কেমন করে তা সম্ভব হলো? এই প্রশ্নের উত্তরও জানতে চান রাজ্যের মানুষজন। এখানেই ঘটনার মধ্যে রয়েছে টুইস্ট। কদিন আগে জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে ওই দিনমজুর পরিবারগুলির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারপরই ওই পরিবারগুলির বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন বিজেপির পশ্চিম মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছতেই খুশির মেজাজে মেতে উঠেছে গোটা এলাকা। দিনমজুর পরিবারগুলির কাছে এই বিদ্যুৎ সংযোগ যেন জীবনের অন্ধকার কেটে আলোর প্রবেশ। আর এই ঘটনার জেরেই হ্যারিকেন আউট হয়ে বিদ্যুৎ ইন হয়ে গিয়েছে।


তাছাড়া আগে সন্ধ্যা নামলেই এই বাড়িগুলি ডুবে যেত ঘন অন্ধকারে। সেসব এখন অতীত হয়ে গিয়েছে। কারণ এদিন আলো জ্বলে ওঠার সঙ্গে যেন নেমে এল অকাল দীপাবলির পরিবেশ। আট থেকে আশি প্রত্যেক পরিবারের সদস্যরাই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন এই দিনটির জন্য। এবার যেন অপেক্ষার অবসান হলো। এই গ্রামের বয়স্ক সদস্যদের অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো জীবদ্দশায় নিজেদের ঘরে বিদ্যুতের আলো দেখে যেতে পারবেন না। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হওয়ায় তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির ছাপ।