‘এই রাজ্যে কোনওভাবে এসব করতে দেব না’, ককরোচদের সরাসরি বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Suvendu Adhikari Image: ANI

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বেআইনি পথে এসআইআর করেছে। আর ভোট চুরি করে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে নানা রাজ্যে। সেটা ধরা পড়ে গিয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলে নয়াদিল্লি থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্যে ব্যাপক আন্দোলনে নেমে পড়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাঁদের একটাই দাবি, অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে হবে। সেটা যতক্ষণ না হচ্ছে ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচি নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু এই আন্দোলনের আঁচ কোনওভাবেই পশ্চিমবঙ্গে পড়তে দেবেন না বলেই সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহাপঞ্চমীর রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার মেচোগ্রাম সমাজশিক্ষা কেন্দ্র এবং ব্যবসায়ী সমিতির দুর্গাপুজোর সূচনা করেই সেকথা সাফ জানালেন তিনি।

এই নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গেও দুর্গাপুজোর পর ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন করতে পারে বলে সূত্রের খবর। সেটা করার আগে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও দেশের তামাম বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা ককরোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন করেছেন। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা ককরোচদের মিছিলকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারণ তাঁদের দাবিও এক। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারকে আগেই তোপ দাগেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। পথে নেমে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের ধরপাকড়ের মুখোমুখিও হন। এবার এদিন সরাসরি বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

দুর্গাপুজোর পর পশ্চিমবঙ্গে যে ককরোচদের আন্দোলন হবে সেখানে বিরোধী দলগুলির যোগ দেওয়ার কথা। তাতে পরিস্থিতি ঘোরালো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই রাজ্যে কোনও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হোক সেটা চান না মুখ্যমন্ত্রী। তাই তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘অশান্তি তৈরির জন্য দেশে থেকে দেশকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চলছে। দেশের মানুষ এগুলি মেনে নেবেন না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশকে আরও শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে। তবে আমরা এই রাজ্যে কোনওভাবে এসব করতে দেব না।’


তাছাড়া ককরোচ জনতা পার্টি এই হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব এখনও দেননি। তবে দুর্গাপুজোর পর আন্দোলন যে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আছড়ে ফেলা হবে সেখান থেকে তাঁরা এখনও সরে আসেননি। ককরোচ জনতা পার্টির ওই আন্দোলনে সামিল হবে তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বামেরা বলে সূত্রের খবর।