মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বাঁকুড়া জেলায় এলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার হুল দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্য সরকারের জনজাতি উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান হয় বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে। সেখানেই সিধু, কানু, চাঁদ এবং বিরসা মুন্ডা-সহ সাঁওতাল বিদ্রোহের সমস্ত অমর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষকে ধন্যবাদ এবং লোকশিল্পী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের মতো আদিবাসী সমাজের গুণীজনদের বিশেষ সংবর্ধনা দেন তিনি। আর এখান থেকেই তপসিলি উপজাতি শংসাপত্র দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় যারা ভুয়ো শংসাপত্র দিয়েছে এবং নিয়েছে তাদের জেলে পাঠানো হবে বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। হুল দিবসের অনুষ্ঠান থেকে আদিবাসীদের উন্নয়ন ঘটানোর বার্তা দেন তিনি। আদিবাদী, মূলবাসীদের উন্নয়নে রাজ্য সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়ে দেন তিনি। রাজ্যে ওবিসি, এসটি-এসসি শংসাপত্র নিয়ে তৃণমূল জমানায় বড় দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। আগের সরকারের আমলে করা ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যে পরিবর্তনের পর সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে ওবিসি সংশোধনী বিল পেশ হয়। বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সিধু-কানুর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার জঙ্গলমহল এবং আদিবাসীদের উন্নতিতে কোনও কাজ করেনি। আদিবাসী সম্প্রদায়কে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল আমলে তপসিলি জাতি-উপজাতি শংসাপত্র নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ‘তৃণমূল প্রচুর ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়েছে। যারা দিয়েছে ও নিয়েছে তাদের জেলা পাঠানো হবে। আদিবাদী, মূলবাসীদের উন্নয়নে রাজ্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রীসভাতে আদিবাদী নেতাদের মন্ত্রী করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আদিবাসীরা ১৬টি সংরক্ষিত আসনে বিজেপিকে জিতিয়েছেন। এখন রাজ্যে ১৭ জন আদিবাসী বিধায়ক রয়েছেন। আমরা যে আজ স্বাধীন ভারতে বসবাস করছি, ব্রিটিশদের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছি, তার সোপান তৈরি হয়েছিল হুল বিদ্রোহের আগুন থেকেই। জল, জমি, জঙ্গলের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই লড়াই আজও আমাদের সমাজে সমান প্রাসঙ্গিক।’
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বক্তৃতায় জনজাতি সমাজের উন্নয়নে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আবিষ্কৃত ‘অলচিকি’ লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষাকে অতীতে কেউ যোগ্য মর্যাদা দেয়নি। আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রথম এই ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে জনজাতি সমাজকে প্রকৃত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। জনজাতিদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল ‘ঝাড়খণ্ড’ রাজ্যটিও গড়ে উঠেছিল অটলজির জমানাতেই। তৃণমূল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেছে। আদিবাসী উন্নয়নে টাকা দেয়নি। আমাদের সরকার আদিবাসী উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। হাতে কাজ, পেটে ভাত এবং মাথায় ছাদের ব্যবস্থা করা হবে।’