‘চোপড়ার মাফিয়া-গুন্ডা বিধায়কের বিরুদ্ধে সব পুরনো মামলার ফাইল খুলবেন’, পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় পড়লেন চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন চোপড়ার বিধায়ক। কিন্তু দু’দিন আগেই সেই শিবির ত্যাগের কথা ঘোষণা করে দেন তিনি। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন জানিয়ে দেন। তাতে জোর ধাক্কা খায় ঋতব্রত শিবির। এবার তাঁর বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সেই সব ফাইল নতুন করে খোলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জে দাঁড়িয়ে ওই জেলার বিধায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পুলিশকে দিলেন তিনি। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

এদিকে রায়গঞ্জের সভা থেকে হামিদুল রহমানের বিরুদ্ধেই জমি দখলের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব পুরনো মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল আমলে আদিবাসী ও সনাতনীদের জমি দখল করা হয়েছে। পুলিশকে সেই সব জমি উদ্ধার করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তোপ দাগেন, ‘চোপড়ার ‘মাফিয়া’, ‘গুন্ডা’ বিধায়ক কত বড় মস্তান হয়েছে তা দেখতে চাই। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনকাল এবং ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনকালে সনাতনী ও আদিবাসীদের জমি দখল করা হয়েছে। সেই সব জমি উদ্ধার করা হবে। সরকারি জায়গায় অবৈধ নির্মাণ করে থাকলে ‘ভেঙে পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিচ্ছি।’

অন্যদিকে চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়ায় দখল হওয়া চা-বাগানের জমিও উদ্ধার করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলায় হাসপাতাল, স্কুল-সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তারপরই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এসপি শ্রীরামপুর, ডিআইজি, আইজিকে বলে গেলাম-চোপড়ার কুখ্যাত গুন্ডা, মাফিয়া বিধায়কের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সব রিওপেন করবেন। যত জমি লুঠ করেছে এরা, সব উদ্ধার করবেন। পরের মিটিং চোপড়ায় করব। আমি দেখতে চাই, কত বড় মস্তান আছে এই জেলায়। একুশের নির্বাচনের পর যারা অত্যাচার করেছে, সবাই নতুন করে এফআইআর করবেন। সবগুলোকে জেলে ঢোকানোর কাজ করব।’


তাছাড়া ঋতব্রত শিবিরে যাওয়া দুই তৃণমূল নেতা গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানি এবং চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর রায়গঞ্জের সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর সভায় অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হলে চাকুলিয়ার বিধায়ক সরাসরি বলে দেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী ও অভিষেক নেতা।’ সুতরাং পরিস্থিতি এখন পাল্টে যাচ্ছে। এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হুঙ্কার, ‘কত বড় মস্তান আছে দেখব, বালি চোর আছে দেখব! ২০২১ সালের নির্বাচনের পরে ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে যারা অত্যাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করবেন। চোর ইন্দ্রনীলের মতো জেলে ঢোকাব। দেখতে চাই কত বড় মস্তান এই জেলায় আছে।’ যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর হামিদুল বলেন, ‘কী ফাইল খুলবে খুলুক। উনি মুখ্যমন্ত্রী। উনি বলতেই পারেন। কে মাফিয়াগিরি করেছে মানুষই জানে।’