দুদিন ধরে নাগাড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে। সেটাই শুক্রবার চরম আকার নিল। এই প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে একদিকে যেমন ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে তেমন দুধিয়া সেতু জলের তোড়ে ভেসে গেল। এমন ঘটনা ঘটবে তা কেউ ভাবতেও পারেনি। উত্তরবঙ্গের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং হাওড়ার বাগনানের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে নবান্নে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই এই সেতু বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর বাগনানে বিজেপি সমর্থক খুনের ঘটনায় তদন্তভার সরাসরি সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
এদিকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে তিনি নিজে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি মনিটর করেছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তুমুল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। সেগুলি দুপুরের মধ্যেই ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লেবং কার্ট রোডে, মিরিক ব্লক-সহ নানা এলাকায় ধস নেমেছিল। সেগুলি মেরামত করা হয়েছে। যদিও দুধিয়া ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ওই ব্রিজের কজওয়ে ভেঙে গিয়েছে। সেগুলি দ্রুত মেরামতি করার কাজ শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ৪-৫ দিন লাগবে। দ্রুত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিলিগুড়ি এবং দার্জিলিং এলাকায় রেকর্ড ২৪০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর তার জেরে মিরিক ব্লক, লেবং এবং মংপো-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘বৃষ্টির জেরে নদী ফুলেফেঁপে উঠে সেতু ভেসে যেতেই পারে। কিন্তু মাত্র সাত-আট মাসের মধ্যে একটা নতুন তৈরি করা সেতু এভাবে কীভাবে ভেসে গেল? এই সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনওরকম কাটমানির কারবার জড়িয়ে ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে।’ উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসেও এই ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন করে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও সাত-আট মাসের মধ্যে কেমন করে সেটি আবার ভেঙে গেল? কাজের ক্ষেত্রে কাটমানির বিষয় ছিল কিনা, সেটা পরে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশাসন সক্রিয় ছিল। উত্তরবঙ্গ ও পাহাড় এলাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থ বরাদ্দে কোনও সমস্যা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের রাস্তায় নেমেছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ এবং জেলাশাসক। সেচ দপ্তর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর থেকে কড়া নজর রাখা হয়েছে পরিস্থিতির উপর বলেও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত পর্যটক আটকে থাকার খবর নেই বলে দাবি তাঁর। দুর্যোগের মধ্যে আলিপুরদুয়ারের হাপিমারা এলাকার ভোলা নালা সংলগ্ন একটি চা-বাগানে গত রাতের বৃষ্টিতে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাতে গভীর শোকপ্রকাশ করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।