‘কৃষকরা ৬ হাজারের পরিবর্তে ৯ টাকা হাজার পাবেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফলে’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

কৃষকদের পাশে আছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। যে কোনও সমস্যায় রাজ্য সরকার পাশে দাঁড়াবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যের পাশাপাশি রাজ্য সরকারও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা করবে। ক্ষমতায় আসার আগে কথাগুলি বলেছিলেন বিজেপি নেতারা। এবার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়ায় ‘কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের সূচনা করলেন তিনি। আর এদিনেই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল কিস্তির টাকা। আগামী দিনে কৃষকবন্ধু প্রকল্পেও তাঁরা সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আলুচাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, কৃষকরা এবার ভিনরাজ্যেও পাঠাতে পারবেন আলু।

এদিকে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পিএম কিষাণের কিস্তির টাকা ঢুকবে এবং কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে ২ হাজার টাকা দেওয়া হল। হুগলিতে কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘মাত্র ছয় মাসের নতুন রাজ্য সরকার সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। পিএম কিষাণ নিধি প্রকল্পের অধীনে প্রত্যেক বছর প্রাপ্ত ৬ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার ফলে রাজ্যের ৪৬ লক্ষের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ৬ হাজার টাকার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা যুক্ত করে কৃষকদের মোট ৯ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবেন।’

অন্যদিকে ৪৬ লক্ষের বেশি কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য স্কিমে ৪ জেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ৪৬ লক্ষ ৪৭ হাজার কৃষককে ২ কিস্তিতে টাকা দেওয়া হল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘সরকারি মান্ডিতে ধান দিলে কৃষকরা প্রতি কুইন্টালে অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে বোনাস পাবেন এবং ধাপে ধাপে ধানের দাম বাড়িয়ে ৩ হাজার ১০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল করা হবে। রাজ্যে আবাস যোজনার ২০ লক্ষ বাড়ির প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যে কোনও কাঁচা বা ছাদহীন বাড়ি থাকবে না। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, বর্ধমানের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা হবে। কৃষকরা ৬ হাজারের পরিবর্তে ৯ টাকা হাজার পাবেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফলে। আমরা ৪ লক্ষ কৃষককে ইতিমধ্যে ভর্তুকি দিচ্ছি ইউনিট প্রতি ২ টাকা। ভূতনির চরে ১০,৭৫০ জনকে মুসুর এবং সরিষার বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যায় যে কৃষকদের বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার, আংশিক ক্ষতি ৯০,০০০ ও সামান্য ক্ষতি হলে ৪০০০ টাকা করে অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে।’


তাছাড়া অনেকেই পিএম কিষাণ যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। এদিন কৃষক বন্ধু প্রকল্পের কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চল্লিশ শতকের বেশি জমি থাকলে বছরে কৃষকরা পাবেন ৬ হাজার টাকা। এই টাকা মিলবে দুই কিস্তিতে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। সীমানায় আলু বোঝাই কোনও গাড়ি আটকানো হবে না। সড়ক বা রেলপথের মাধ্যমে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ভাড়ায় ৫০ টাকা সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে। আলুচাষিদের ১ হাজার ১২০ টাকার ফ্রি বন্ড দেওয়া হবে এবং বাজারে আলুর দাম কমে গেলে কৃষকদের যে ক্ষতি হবে, সেই ঘাটতির টাকা সরকার ভর্তুকি হিসেবে মিটিয়ে দেবে। আলু সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে ৫০টি কৃষক মান্ডিতে সৌরশক্তি চালিত আধুনিক হিমঘর তৈরিতে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিমা যোজনার আওতায় আনা হবে আলু চাষকে। ফলে আলুর জন্য কৃষকদের বিমা দিতে হবে না। গত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের আলু বাইরে যেত না। আলু নষ্ট হতো। দাম পেতেন না কৃষকরা।’