নেপালের পর ভুটানেও গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্টের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ হিমবাহের রদ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জলরাশি নেমে এসেছে বলে খবর। তার জেরে সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুটানের গাসা জেলার বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকা জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। বিরাট বড় বড় পাথর, কাদা এবং ধ্বংসাবশেষে পাহাড়ের রাস্তাঘাট ঢেকে গিয়েছে। তার জেরে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। এই ঘটনায় যে কোনও সময়ে বড় বিপদের আশঙ্কা ছিল উত্তরবঙ্গে। তবে সঠিক সময়ে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তাই বিপদ থেকে রক্ষা পেল জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার। দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। সকলেই নিরাপদে আছেন বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভুটানের পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণে জল নীচের দিকে নেমে আসায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ঘেঁষা উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা শুরু হয়। আর এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি করে জেলা প্রশাসন। তবে খবর মিলেছে, ডুয়ার্স অঞ্চলে নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার নীচে থাকায় বড় কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। এই খবর পেয়েই শুক্রবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর দরবার থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভোররাত ৪টে পর্যন্ত পুলিশসুপার, মন্ত্রী, বিধায়করা কাজ করেছেন। নবান্ন কন্ট্রোল রুমের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। সংকোশ নদী বিপদসীমার নিচে বইছে। নিখোঁজ হওয়ার যে খবরের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ৪৭ জনই নিরাপদে আছেন।’
বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলার একটি হিমবাহ ধসে পড়ে। তার জেরে ভেঙে যায় শিন্তাফু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ। রাতের অন্ধকারে হড়পা বানে ধ্বংস হয়ে যায় গাসা তশাচুর এলাকার বহু ইমারত। গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে খবর আসে। ওই হ্রদের জল ভুটানের মফু নদী হয়ে নেমে আসতে থাকে সংকোশ নদীর দিকে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছিল এই বিপর্যয়ের জেরে অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের একাংশ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে। কিন্তু তা হয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুক্রবার দিনের আলো ফুটতেই সব খতিয়ে দেখা হয়।
তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম প্রশাসনকে সতর্ক করেছে ভুটান সরকার। তারপরই আলিপুরদুয়ারের ১২ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের জন্য পানীয় জল, খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক। নবান্ন কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর সমস্ত মানুষ সুরক্ষিত আছেন।’