‘বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার’, উপনির্বাচনের প্রচারে হুমায়ুনকে তুলোধনা শুভেন্দুর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

কদিন আগের কথা। রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় না রেখে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু কামনা করেছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আর তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। এবার রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে আগে জিতেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এবার নিজের ছেলেকে সেখানে প্রার্থী করেছেন তিনি। সেখানেই প্রচার করতে গিয়ে পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর একইসঙ্গে হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় তুলোধনা করলেন তিনি। যা নিয়ে এখন বেশ চাপে পড়ে গিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

এদিকে হুমায়ুন কবীর যে সঠিক কাজ করেননি সেটাও উপনির্বাচনের প্রচারে এসে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী এই উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় কাকে নির্বাচিত করতে হবে সেটা মানুষের হাতে ছেড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনে এদিন রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে হুমায়ুনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জনতার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘এই লোককে ভোট দেবেন? রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয় এবং হবেও, বাক্য বিনিময় হবে, তর্ক হবে, আলোচনা-সমালোচনা হবে, একজন জিতবে-অন্যজন হারবে। আর এখানে হুমায়ুন সাহেব বলছেন আমি প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করছি অজিত পাওয়ারের মতো মুখ্যমন্ত্রী তাড়াতাড়ি উপরওয়ালার কাছে চলে যান! শত্রু হলেও মুখে এই ভাষা আনি না।’

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী যে হুমায়ুনের এমন মন্তব্য ভালভাবে নেননি সেটা তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়। বৃহস্পতিবার রেজিনগরের জনসভা থেকে হুমায়ুনের অতীত ইতিহাস সবার সামনে ফাঁস করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। হুমায়ুন কবীরকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মুখ্যমন্ত্রীর চাঁচাছোলা আক্রমণ, ‘বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার। আপনার লোকেরাই আপনার কাছ থেকে সরে গিয়েছে। কারণ আপনি আপনার রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে ছুরি মেরেছেন। আপনি যখন মন্ত্রী ছিলেন, এখানে দাঁড়িয়েছিলেন, সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বলেছিল, এমএলএ চাইছেন না মন্ত্রী চাইছেন? সেদিন রেজিনগরের লোক আপনাকে হারিয়েছিল। আপনাকে আশ্রয় দিয়েছিল মুকুল রায়। আপনি বিজেপির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। শেষ আশ্রয়স্থল ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আপনিও বিভাজনের রাজনীতি করে ধর্মীয় স্থানকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছেন।’


তাছাড়া রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ্যে হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায়, উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব। তিনি যেন তাড়াতাড়ি উপরে যাওয়ার টিকিট কেটে দেন। অহংকারের পতন হবে, পৃথিবী থেকে যেতে হবে।’ এবার এই মন্তব্যেরই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, ‘নওদা থেকে বিধানসভায় গিয়েছেন হুমায়ুন সাহেব। এই ৫ মাসে নওদার লোককে কী দিয়েছেন? একটা ইটই গাঁথতে পারেননি। আগামী ৫৫ মাসেও পারবেন না। ৫ মে মধ্যরাতে আমি বলেছিলাম তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। ১৫০ দিনে জোড়াফুলও নেই, তৃণমূলও নেই। কে আসল, কে নকল। মমতা এআইটিসি তো গরুর গাড়ির হেডলাইট, আরেকটা ডেমোক্রেটিক টিএমসি। রেজিনগর কেন, গোটা বাংলায় এদের নাম পাবেন না। যেমন কর্ম তেমন ফল তো পেতেই হবে।’