অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা, বেতন কি বাড়বে? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Suvendu Adhikari Image: ANI

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ক্ষমতায় এসেই নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো খোলনলচে বদলে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে আয়োজিত ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করলেন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। আর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বললেন, ‘ওদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ।’

এদিন পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে পানিহাটির কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই আইসিডিএস কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রাজ্যের সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্রে এবার থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ঢেলে সাজানো হবে কেন্দ্রগুলি।’ আর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের মন্তব্য, ‘শিশু শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী এই কর্মীরাই মূলত দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত আগস্ট মাসেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রত্যেক মাসে অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা বর্ধিত বেতন কার্যকর করা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ‘দিদি’-দের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবীমা যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার ফলে দেশের প্রায় ৩৮টি নামী সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন তাঁরা। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘শিশুদের খাবারের বরাদ্দ ২ টাকা বাড়িয়ে ৮ টাকা করা হয়েছে। প্রসূতিদের ১২ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৪ টাকা। এখন ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি চলছে ভাড়া করা বাড়িতে। আগামী দিনে সেগুলি রাজ্য সরকারের নিজস্ব ঠিকানায় হবে। তার জন্য অর্থ বরাদ্দও করা হয়েছে।’


তাছাড়া এদিনের সভা থেকে সমাজের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উৎসাহিত করে নীতিন বলেন, ‘শিশুদের জীবনের প্রথম গুরু হলেন এই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাই। শৈশবেই খুদেদের নৈতিক শিক্ষা ও যত্নের দায়িত্ব তাঁরা কাঁধে তুলে নেন। দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রয়েছে তাঁদেরই হাতে।’