‘এবার রেকর্ড ভাঙবেন তো?’, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন থেকে উন্নয়ন নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম বিধানসভায় জনকল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। নন্দীগ্রামের সার্বিক রূপরেখা বদলে দেওয়ার কথা ঘোষণা ঘোষণা করেন তিনি। নন্দীগ্রামের ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে ৩২টি নতুন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, হরিপুরে নতুন দমকল উদ্বোধন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের একাধিক আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরের কর্মসূচি পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার প্রশাসনিক কাজের তদারকি করেন তিনি। এই সভা থেকেই নন্দীগ্রামের জন্য একাধিক ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। রাস্তা থেকে স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই নন্দীগ্রামে কল্পতরু হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে জেতেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর ভবানীপুর নিজের কাছে রেখে ছেড়ে দেন নন্দীগ্রাম। কিন্তু নন্দীগ্রামকে তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মতোই দেখবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। এবার সেই কথা রাখলেন তিনি। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামবাসীর কাছ থেকে উত্তর নিলেন উপনির্বাচনে রেকর্ড ভাঙার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে তিন হাজার করে টাকা পাচ্ছেন। নন্দীগ্রামের ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা পাবেন ৮৭ হাজার মানুষ। শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ছিল। নন্দীগ্রামে ১ ব্লকের ১৮,২০০ জন বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বাইরে থাকেন। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের ১২০০০ পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে থাকেন। তাঁরাও বাইরের রাজ্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন।’

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে ৩২টি রাস্তার কাজের এবং জরুরি পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে হরিপুরে একটি নতুন দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে কাঁথি বা তমলুকের উপর আর নির্ভর করতে হবে না। বহুল প্রতীক্ষিত হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সেতুর আপডেট দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের মাটি পরীক্ষা, এস্টিমেট এবং বাজেটে অর্থ বরাদ্দের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর ভূমি পুজোয় তিনি নিজে আসবেন এবং সেতু চালুর পর প্রথম গাড়িটি তিনি নিজে চালিয়ে নিয়ে যাবেন বলেও ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আজকের দিনটা নন্দীগ্রামের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দিন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন এবারও। আমি এই সাড়ে তিন মাস রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এই সাড়ে তিন মাস বা চার মাসের কাছাকাছি দিন একটা সরকারের কাছে তেমন কিছু দিন নয়। তারপরেও আজ আমরা এখানে যে কাজগুলি করলাম, তার মধ্যে ৩২টি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার। বেশ কিছু রাস্তার উদ্বোধন বা নতুন রাস্তার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন হলো। আমি বিশেষ করে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ ও হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদকে ধন্যবাদ জানাব। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি হওয়া গ্রামীণ এলাকা নন্দীগ্রামে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।’


এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আসেন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে। এখানে যত ভোটে তিনি জিতেছিলেন এবার সেই রেকর্ড ভাঙতে হবে বলে টার্গেট বেঁধে দেন। তাঁর কথায়, ‘২০২১ সালে হেরে গিয়েছিলেন বলে উনি নন্দীগ্রামের রেল আটকে রেখেছিলেন। মাত্র ছয় একর জায়গা। আমরা ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন একর জায়গা রেলকে দিয়ে দিয়েছি। বাকিটাও দিয়ে দেব। নন্দীগ্রামে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে। তার কাজ শুরু হয়েছে। আমাকে ৮২ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন। এবার রেকর্ড ভাঙবেন তো? নন্দীগ্রাম সবসময় অগ্রাধিকারের জায়গায় থাকবে। মার্চের মধ্যে রেল চালু হবে। প্রথম আমি চড়ব আপনাদের নিয়ে। নন্দীগ্রাম ভাল থাকলে আমি ভাল থাকব। ফলতার উপরে যাবেন তো? দু’হাত তুলে কথা দিন। রাজ্যের উন্নয়ন তো করবেই। অগ্রাধিকারে এক নম্বরে থাকবে নন্দীগ্রাম।’