পশ্চিমবঙ্গে শিল্পযুগের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী, আগের জমি নীতি আউট নয়া পথ ইন শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari Photo-SNS

পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে হাত পুড়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের। ওই জমি আন্দোলনকে সামনে রেখে ডিভিডেন্ট ঘরে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমি নীতিকে আউট করে দিয়ে নতুন পথকে ইন করালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিঙ্গুর আন্দোলনের ঠিক ২০ বছর পর আগের নীতি রাতারাতি বদলে ফেলে ঐতিহাসিক উলটপুরাণ ঘটাল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। বিনিয়োগে লাল ফিতের জট কাটাতে জমি নীতিতে বদল আনতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পযুগের সূচনা তাঁর হাত ধরেই শুরু হলো।

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ঠিক দু’মাসের মাথায় শনিবার ডানকুনিতে লাক্স কোজির ৬০০ কোটি টাকার নয়া প্ল্যান্টের প্রথম ইট গাঁথেন শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে ৬ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থান হতে চলেছে। লগ্নির এই মহরৎ মঞ্চে দাঁড়িয়েই রাজ্যের পুরনো জমি নীতিকে আউট করে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।  মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১০০ কোটির উপরে বিনিয়োগে মিলবে সরাসরি ছাড়পত্র। পুরসভা, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ নয়। সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে ছাড়পত্র দেবে রাজ্য সরকার। আগের সরকারের মতো এখনকার সরকার জমির পুরো বিষয়টি শুধু শিল্পপতিদের উপর ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। কারণ বাজারের হাতে সব ছেড়ে দিলে ফড়েরা মাথা গলায় এবং গণ্ডগোল বাড়ে।

এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের নানা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা জমিনীতি। ওই পলিসি পুরো বদলে দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ঠিক যেভাবে বিএসএফ-কে সরকার জমি দিয়েছে, সেভাবেই এবার থেকে রাজ্য সরকার নিজেই সরাসরি জমি কিনে নেবে। তারপর সেই জমি নির্দিষ্ট শিল্প সংস্থাকে হস্তান্তর করা হবে। পুরসভা, কর্পোরেশন, পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ দুর্নীতি, দাদাগিরির জায়গা। ১০০ কোটির উপর বিনিয়োগে সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে মিলবে জমি। ল্যান্ড সিলিং পলিসি পুরো বদলে দেব। বাংলা আবার বিনিয়োগে ভারত সেরা হবেই। শিল্পের খরা কাটিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণে বাংলায় এবার নতুন জোয়ার। ডবল ইঞ্জিনের সুফল মানুষ পাবেনই।’


তাছাড়া বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি করতে এবার এই সাড়ে ৭ কাঠার আইনি গেরো বা আরবান ল্যান্ড সিলিং আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়া বিজেপি সরকার। তার ফলে সাড়ে ৭ কাঠার বেশি জমি আছে এমন মালিকদের জমি ক্রয়-বিক্রয়ে আর সরকারি অনুমতির জন্য জুতোর শুকতলা খোয়াতে হবে না। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দু’মাসের সরকারে অনেক পরিবর্তন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। মে মাসের পর কেউ টাকা চাইতে যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা আমাদের লক্ষ্য। বেকারত্ব দূর করা আমার দায়িত্ব। এই রাজ্য তামিলনাড়ুর থেকেও ভাল, গুজরাটের থেকেও ভাল অর্থনীতিতে ছিল। বাম জমানায় তারা যখন ছেড়ে চলে যায়, তখন ২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা ছিল। এখন আট লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। এই ঋণের বোঝা ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এক লক্ষ কোটি টাকা শুধু ঋণ শোধ করতে যাচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়িয়ে নিজেদের রাজস্ব বাড়াতে হবে। বছরে ১ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক রেভিনিউ বাড়বে।’