অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে কদিন ধরেই জেলাওয়ারি বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মহিলারা। রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে ট্রেন অবরোধ করেছেন মহিলারা। বহু মহিলা যোগ্য প্রাপক হলেও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা ঢোকেনি বলেই অভিযোগ। এমনকী বহু মহিলার নাম এখনও প্রসেসিং দেখাচ্ছে। আবার বেশ কিছু মহিলার ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের পর তালিকা থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা যোগ্য প্রাপক নন। এই আবহে শুক্রবার অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পাওয়া নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্ধমানের সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে সামনেই দুর্গাপুজো। মহিলারা শপিং করতে চান। আবার কিছু টাকা হাতে রাখতে চান উৎসবে আনন্দ করার জন্য। কিন্তু কবে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? এই প্রশ্ন সব মহিলাদের মনে। এবার এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বর্ধমানের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভেরিফিকেশনে যাঁদের নাম অ্যাপ্রুভ হয়েছে, দুর্গাপুজোর আগে বাকিদেরকেও টাকা ট্রান্সফার করে দেব।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা বিদ্যুতের মতো ছড়িয়ে পড়তেই অত্যন্ত খুশি রাজ্যের মহিলারা। বহু মহিলার নাম ইতিমধ্যেই অ্যাপ্রুভ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং দুর্গাপুজোর আগে সেসব মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা।
অন্যদিকে বর্ধমানের সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় সুবিধাভোগীদের তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনায় এই জেলায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের মহিলা, দিদি, বোন যাঁরা আবেদন করেছিলেন, সেই সংখ্যাটা ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৮১ জন। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে মঞ্জুর হয়েছে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩২ জনের। কয়েকজনের আবেদন এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আবেদন খারিজ হয়েছে ১৭ হাজার ৪৫ জন। ভেরিফিকেশন পেন্ডিং ১০ হাজার ৭১৪। টোটাল আমাদের টাকা দেওয়া হয়েছে ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১। বাকি যাঁদের ভেরিফিকেশনে অ্যাপ্রুভ হয়েছে, তাঁদের দুর্গাপুজোর আগে বাকিদেরকেও টাকা ট্রান্সফার করে দেব।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা শুধু বর্ধমানের জন্য নয়। এই কথা গোটা রাজ্যের জন্যও। সুতরাং অক্টোবর মাস পড়ার আগেই সুখবর পেয়ে গেলেন রাজ্যের মহিলারা। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া সুখবর, ‘আরও যাঁরা যোগ্য আছেন, তাঁদেরকেও আমরা দিয়ে দেব। ৫০০ টাকা দিত আগের সরকার। ৯ মাস লেগেছিল চালু করতে। আমাদের তো ৫ মাসও হয়নি, তার মধ্যে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলাকে দিয়েছি। এই জেলার ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১ জন, দিদি এবং বোনের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে। বাকি যোগ্যরাও আগামী মাসে টাকা পেয়ে যাবেন। এই সরকারকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করুন। আমরা বয়স্কদের ভাতা আরও বাড়াব।’