মতুয়াদের নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ছিল তা যেন এক লহমায় ভেঙে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাগরিকত্ব থেকে পুরসভা, হাসপাতাল মতুয়াদের একাধিক দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী আগামী ৩১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে আবেদনকারী আড়াই লক্ষ মতুয়াকে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। আর আগামী অর্থবর্ষে ঠাকুরনগরকে পুরসভা করার পাশাপাশি মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাসও দিলেন তিনি। রবিবার ঠাকুরনগরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনের মঞ্চ থেকে এই কথাগুলিই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, এই সরকার শুধুমাত্র বিজেপির নয়, আপনারদেরও।
এদিকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার সবরকমভাবে সাহায্য করবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কড়া ভাষায় আগের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ঠাকুরনগরে এসে অমিত শাহ বলেছিলেন সিএএ আইন কার্যকর করা হবে। ৬ মার্চ, ২০২৪ সালে তা কার্যকর হয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্য সরকার সিএএ’র আওতায় যারা দেশভাগের বিভীষিকা নিয়ে এক দেশ ছেড়ে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রী তার বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন ক্যা ক্যা ছি ছি। অন্যায় করেছিলেন আপনাদের সঙ্গে।’
অন্যদিকে এই সরকার আপনার সরকার। সিএএ নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে অযথা চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে রবিবার প্রথম ঠাকুরবাড়িতে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। নাগরিকত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘আবেদনকারীদের নথি যাচাই করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লক্ষ মতুয়াকে সিএএ-র শংসাপত্র দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠবে। আগামী বছর থেকে ভোটও দিতে পারবেন তাঁরা। মতুয়াদের সমস্যা দেখার জন্য নবান্নে একজন আধিকারিককে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
তাছাড়া নির্বাচন কমিশনকে যেমন এই বিষয়ে বলা হবে তেমন প্রয়োজনীয় প্রামাণ্য নথি তৈরি করার ক্ষেত্রেও সাহায্য করা হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরের পরিকাঠামো উন্নয়নেও একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। প্রয়াত বীণাপাণি ঠাকুরের নামে হবে হাসপাতাল। বারুণী মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। ঠাকুরবাড়ির মন্দির সম্প্রসারণে ট্রাস্টের জমিতে নতুন নির্মাণের পরিকল্পনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেছেন। এমনকী বনগাঁ, বারাসত এবং বসিরহাটের জেলে বিনা বিচারে বন্দি মতুয়া ও সনাতনীদের মুক্তি আর তাঁদের জমি-বাড়ি দেওয়ার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘এখন আমরা ক্ষমতায়। তফসিলি জাতিভুক্তরা সবাই এসসি সার্টিফিকেট পাবেন। এক্ষেত্রে কেউ বাধা দেবে না। বাংলাদেশে পালাবদলের পর অনেক মতুয়া-সহ হিন্দুদের উপর অত্যাচার হয়েছে। এই কথা মোদীজির কানে পৌঁছনোর পর মমতার পুলিশ বেছে বেছে হিন্দুদের জেলে পুরেছিল। বনগাঁ-বারাসাত-রানাঘাট-সহ যদি কোনও জেলে মতুয়া শরণার্থীরা বিনা বিচারে তৃণমূল সরকারের অত্যাচারে জেলে থেকে থাকেন, প্রত্যেককে সসম্মানে জেল থেকে বের করে যোগীজির মতো জমি দেব, বাড়িও করে দেব।’